Select Page
সুফিবাদ নিয়ে ইমাম গাজ্জালী(রহঃ) এর মন্তব্য

সুফিবাদ নিয়ে ইমাম গাজ্জালী(রহঃ) এর মন্তব্য

সুফিবাদঃ যখন সুফিসাধনায় মনোনিবেশ করলাম তখন দেখতে পেলাম যে একমাত্র সুফিগনই হক পথে প্রতিষ্ঠিত আছে ।দীর্ঘদশ বছর কৃছ্র সাধনার মাধ্যনে আমি সন্দেহাতীতভাবে এ সত্যটি উপলব্ধি করেছি যে , সুফি মন্ডলীই আল্লাহর একনিষ্ট সাধক,আল্লাহর পথের যথার্থ পথিক,তাদের তরিকাই হলো সবচেয়ে নিখুত তরিকা।তাদের নৈতিক চরিত্র মানবকুল শ্রেষ্ঠ জীবনধারা,অতি সচ্ছ এবং তারা নিখুত ও উন্নত নৈতিকতার অধিকারী ,তাদের নৈতিকতা ও চরিত্র এতই বলিষ্ঠ ও উচ্চমানের যে,সমস্ত দর্শন বিজ্ঞান ও শরীয়তবেত্তাদের যাবতীয় জ্ঞান গরিমার সমন্বয় করেও এর মোকাবেলা করা যাবে না।অনুরূপ বলিষ্ঠ চরিত্র কাঠামো রচনা করা সম্ভবপর হবে না। কারন আধ্যাত্নিক এবং জাগতিক নির্বিশেষে তাদের প্রত্যেকটি কাজ নুরে নবুয়তের দ্বারা স্নাত।এ নুরে নবুয়তকে বাদ দিলে আর কি আছে যা দ্বারা প্রকৃত সত্যের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

ফানাফিল্লাহ আধ্যাত্নিক উৎকর্ষতার সর্ব্বোচ্চ স্তর এতে সন্দেহ নেই।তবে তা কৃচ্ছ্রতা সাধনার পরিনতির দিক থেকে  অন্যথায় এটাই আধ্যাত্নিকতার প্রথম সোপান,এর পুর্বে যা কিছু করা হয়,সবই এর প্রস্তুতি পর্বে গন্য। ফানাফিল্লাহ থেকে দিব্যজ্ঞান ও দিব্য দৃষ্টির উন্মেষ ঘটে।
সুফিগন এ সোপানে অনুপ্রবেশ করেই ধ্যানের(মোরাকাবা) মাধ্যমে ফেরেশতা ও নবীদের আত্নার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন,তাদের কথা শোনেন এবং তাদের সাহায্যে প্রকৃত জ্ঞান আধ্যাত্নিকতার সন্ধান পান। শুধু তাই নয়, তাদের নৈতিক উন্নতি সাধিত হয় এবং সৃষ্টি ও বস্তুজগতের উর্ধ্বে তারা এমন একটি জগতের সন্ধান পান ,যার অবস্তা ও প্রভাব ভাষায় বর্ননা করা যায় না।তা বর্ননার চেষ্টা করলে ত্রুটি বিচ্যুতি না হয়ে উপায় নেই।তাছাড়া সান্নিধ্য ও মিলনের বর্ননা ভঙ্গি বিশেষজ্ঞগনের একান্ত নিজস্ব।
কেউ বলেন , এর অর্থ, আত্মার সাথে পরমাত্মায় মিলন। আর কারাে মতে এ হলাে, আত্মার পরমাত্মায় উপনীত হওয়া। প্রকৃতপক্ষে এ মতবাদগুলাে গবেষণা করেছি। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা এই যে, যারা এসব গূঢ় রহস্যের সাথে পরিচিত হয়েছেন, তাদের এই অধিক কিছুই বলা উচিত নয় যে, যা হওয়ার তা-ই হয়েছে, বর্ণনা করার নয়। এতটুকুই জেনে রাখা ভাল যে, ভালই হয়েছে, এর বেশি অনুসন্ধান করে কোন উপকার হবে না।

মোটকথা, যে ব্যক্তি তাসাউফের (সুফিবাদের)আলো পায়নি, সে নবুয়তের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সম্পুর্ন অক্ষম।মুর্খরাই সুফিবাদের বিবৃত তত্ত্ব ও তথ্যকে অস্বীকার করে এবং তা নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসে।

মনসুর হাল্লাজ এর কারামত

মনসুর হাল্লাজ এর কারামত

মনসুর হাল্লাজ এর জেলখানার অলৌকিক ঘটনা। 

মনসুর হাল্লাজ এর কারামত

খাজা বাবার কারামত।

গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারীর কারামত।

খাজা বাবার কারামত।

খাজা বাবার কারামত।

 

 

 

জালাল উদ্দিন রুমির বানী

জালাল উদ্দিন রুমির বানী

ভালোবাসা মানে কি? ভালোবাসা কাকে বলে?

ভালোবাসা মানে কি? ভালোবাসা কাকে বলে?

 ভালোবাসা মানে কি? একজন পুরুষ একটি মেয়েকে ভালবাসে। সে একাই তাহাকে পরিপূর্ণ ভাবে ভোগ করিতে চায়; তাহার প্রতিটি গতিবিধি সম্বন্ধে পুরুষটির মনে ঈর্ষার উদয় হয়। সে চায়-মেয়েটি তাহার কাছে বসুক, তাহার কাছে দাঁড়াক, তাহার ইঙ্গিতে খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা প্রভৃতি সব কাজ করুক। সে ঐ মেয়েটির ক্রীতদাস, এবং মেয়েটিকেও নিজের দাসী করিয়া রাখিতে চায়। ইহা ভালবাসা নয়, ইহা একপ্রকার দাসসুলভ অনুরাগের বিকার। ভালবাসার মতো দেখাইতেছে, বস্তুতঃ ইহা ভালবাসা নয়। উহা ভালবাসা হইতে পারে না, কারণ উহা যন্ত্রণাদায়ক। যদি মেয়েটি তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ না করে, তবে তাহার কষ্ট হইবে। ভালবাসায় কোন দুখঃকর প্রতিক্রিয়া নাই। ভালবাসার প্রতিক্রিয়ায় কেবল আনন্দই হইয়া থাকে। ভালবাসিয়া যদি আনন্দ না হয়, তবে উহা ভালবাসা নয়; অন্য কিছুকে আমরা ভালবাসা বলিয়া ভুল করিতেছি। যখন তুমি তোমার স্বামীকে, স্ত্রীকে,পুত্রকন্যাকে, সমুদয় পৃথিবীকে, বিশ্বজগৎকে এমনভাবে ভালবাসিতে সমর্থ হইবে যে, তাহাতে কোনরূপ দুঃখ ঈর্ষা বা স্বার্থপরতার প্রতিক্রিয়া হইবে না, তখনই তুমি প্রকৃতপক্ষে অনাসক্ত হইতে পারিবে। স্বামী বিবেকানন্দ। ভালোবাসা মানে কি?

যৌন মিলন ঋতুর কোন তারিখের করলে কি রকম সন্তান হয়।

ভাগ্য চিহ্ন। পুরুষ জাতীর বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্ন বর্ণনা

ভাগ্য চিহ্ন। পুরুষ জাতীর বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্ন বর্ণনা

ভাগ্য সুখ দুঃখ। পুরুষ জাতীর বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্ন বর্ণনা।

ভাগ্যঃ পুরুষ জাতীর বিভিন্ন লক্ষণ ও চিহ্ন বর্ণনা। নারীর লক্ষণ-অলক্ষণের বিচার যেমন করা হলাে, তেমনি আবার পুরুষ জাতীর শরীরেও এমন সব চিহ্ন আছে যা দেখে তাদের সুখ বা দুঃখ কিংবা তাদের ভাগ্য কেমন হবে—তাদের জীবনে উন্নতি সম্ভব হবে না অবনতি ঘটবে তা বলা যায়।

অনেকে আজকাল হয়ত এ সব চিহ্নে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে জীবনে বাস্তব অভিজ্ঞতা ঘটতে থাকলে তারা এ সব বিশ্বাস করতে বাধ্য হন।

পুরুষ বা নারীর হয়ত বিরাট উচ্চকুলে জন্ম—কিন্তু তারা তাদের দেহের বিভিন্ন লক্ষণ অনুযায়ী ভাগ্য লাভ করে।

তাই লক্ষপতির ঘরে জন্ম নিলেও কত লােক – যারা নানান ধরনের কুলক্ষণযুক্ত—তারা ধীরে ধীরে সমস্ত অর্থ নিঃশেষ করে জীবনে অশেষ কষ্ট পায়।।

আবার হয়ত কোন লােক খুব গরীব বা মধ্যবিত্ত ঘরে তার জন্ম, সে নিজের চেষ্টায়, উদ্যমে, ভাগ্যে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে ধনে, মানে, প্রতিষ্ঠায় সমাজে শ্রেষ্ঠ লােক বলে নিজেদের পরিচয় দিতে পারে।

তাই কোন লােক তার মেয়ের বিবাহাদির জন্য যদি পাত্র খুঁজতে যায়, তবে শুধু বংশ বা চেহারা দেখে বিচার করলেই হবে না, পুরুষ জাতির নানা কুচিহ্ন তার দেহে বর্তমান কিনা তা দেখা একান্ত আবশ্যক।

আমরা জানি, স্বদেশে ও বিদেশে এমন হাজার হাজার লােক ছিলেন যারা নিতান্ত গরীব হয়েও জগতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হয়েছেন।

সেক্সপীয়র ছিলেন ঘােড়ার গাড়ির কোচম্যান, ষ্ট্যালিন ছিলেন কামারের ছেলে, হিটলার মুচির ছেলে, মোপাসা পতিতার পুত্র। আমাদের দেশেও শরৎচন্দ্র, আলামােহন দাস, স্যার জেমসেদজী টাটা, কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভৃতি অজস্র মনীষী ও শ্রেষ্ঠ ধনী নিতান্ত গরীবের ঘরে জন্মেছিলেন ।

তাই ভাগ্য বা সুখ সৌভাগ্যের পরিবর্তনে মানুষের বিশ্বাসী হওয়া অবশ্যই উচিত। আমাদের শাস্ত্রে আরও আছে—

স্ত্রীয়াশ্চরিত্রং পুরুষ ভাগ্যং।

দেবাঃ ন জানন্তি কুততা মনুষ্যাঃ ।।

কোন পুরুষের ভাগ্যে যে কি আছে, তা দেবতারা পর্যন্ত জানতে বা বলতে পারেন না। তাই সুখ-দুঃখ-সৌভাগ্য ইত্যাদির চিহ্ন যে অনেকটা এ বিষয়ে পূর্বাহ্নে শুভ সূচনা করে সে কথা অবশ্য স্বীকার্য।

মহাদেব অতঃপর পুরুষজাতির ভাগ্য ও সুখ-দুঃখের যে বর্ণনা দিলেন তা একে একে বলা হচ্ছে।

যে লােকের কণ্ঠস্বর, বুদ্ধি ও নাভি গভীর হয় তাকে সুখী ও সুলক্ষণযুক্ত বলে জানবে। অর্থাৎ সে লােকের গলার স্বর বেশ ভারী হয়, বুদ্ধি বেশ ধীরস্থির এবং বেশ ভালভাবে অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবে সে কোনও কাজ করে না, আর তার নাভির গর্ত বেশ গভীর থাকে ।।

এ ছাড়া যার বুক, শির ও ললাট (কপাল) প্রশস্ত, সেও লক্ষ্মীবান পুরুষ বলে বর্ণিত হয়েছে।

স্বরে বুদ্ধিশ্চ নাভিশ্চ ত্রিগম্ভীরমুদাহৃতম।

এব যস্য বিস্তীর্ণং তস্য শ্ৰীঃ সব্বততামুখী।

উরঃ শিরাে ললাটঞ্চ ত্রিবিস্তীর্ণং প্রশস্ততে।

তারপর অন্য আর ও কতক গুলি লক্ষণ বর্ণনা করা হয়েছে।

যে পুরুষের কটিদেশ বিশাল (বেশ চওড়া যার কোমর ও নিতম্ব), সে বহু পুত্র লাভ করে থাকে।

যে পুরুষের বাহু সুদীর্ঘ ( অনেক সময় আজানুলম্বিত বাহু বলে শ্রেষ্ঠ পুরুষদের বর্ণনা করা হয় ), সে নরশ্রেষ্ঠ ও সুখ সম্পন্ন হয়ে পরম শান্তি ও আনন্দে দিন কাটাতে পারে।

যে পুরুষের বক্ষদেশ বিশাল—অর্থাৎ যার বুক বেশ চওড়া ধরনের সে পুরুষ ধনধান্যযুক্ত হন। সাংসারিক সর্ববিষয়ে তার ভাগ্য ভাল দেখা যায়।।

যে পুরুষের শিরােদেশ বিশাল ( অর্থাৎ মাথা যার বড় ), সে নরলােকে সর্বত্র পূজা পায়। এই পুরুষরা সর্বত্র সুমেধা ও নিজ কীর্তির মহত্বের জন্যে সকলের কাছে পূজনীয় হয় এবং সকলেই তাদের গুণের জন্য তাদের শ্রদ্ধা ভক্তি করেন।

কটিবিশাল বহুপুত্ৰভাগী।

বিশালহন্তো নর-পুঙ্গবঃ স্যাৎ।

উরে বিশালং ধনধান্যভােগী

শিরে বিশালং নরপূজিতঃ স্যাৎ৷৷

অতঃপরে আরও কতকগুলি পুরুষজাতির লক্ষণ বর্ণনা করা হচ্ছে। এগুলি সব সুচিহ্ন।

যে পুরুষ বিশেষ কঠিন কাজকর্ম করে না, অথচ তার হাতদুটি হয় শক্ত ও কঠোর, অনেক পথ চলেও যার পা দুটি থাকে কোমল, আর যে পুরুষের করতল রক্তবর্ণ অর্থাৎ লালচে রঙের হয়, সেই পুরুষ যে সুখী হবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

অকৰ্ম্ম কঠিনৌ হস্তৌ পদাবন্ধনি কোমলো।

যস্য পাণিতলৌ রক্তৌ স সুখী নাত্ৰ সংশয়ঃ ।

যে পুরুষের শিক্ষাগ্র অর্থাৎ লিঙ্গের অগ্রভাগ স্থুল হয় সে সুখী হয়। যে পরুষের শিশ্ন দীর্ঘ বা অনেক বেশী লম্বা সে দুঃখ পায়, যে পুরুষের শিশ্ন চোট কিন্তু কৃশ হয় সে সৌভাগ্য লাভ করে থাকে।

সুলশিশ্নঃ সুখী চৈব দীর্ঘাশিশ্নশ্চ দুঃখিত।

কৃশশিশ্নশ্চ সৌভাগ্যলক্ষণং নাত্ৰ সংশয়ঃ ৷৷

 

যৌন মিলন ঋতুর কোন তারিখের করলে কি রকম সন্তান হয়।

ঋতুস্রাব।প্রথম ঋতুস্রাব কোন তিতিতে হলে কি হয়?

ঋতুস্রাব।প্রথম ঋতুস্রাব কোন তিতিতে হলে কি হয়?

প্রথম ঋতুস্রাব বৃহৎ রতিশাস্ত্র থেকে আলোচনা।

গিরিরাজনন্দিনী পার্বতী ধৈর্যসহকারে মহাদেবের কাছ থেকে সমস্ত শাস্ত্রবচন শুনলেন।

তার মন আনন্দে ভরে উঠল।

মহাদেবের মত জ্ঞানী যে সারা বিশ্বে দুর্লভ তা তিনি তার মুখ থেকে সমস্ত শাস্ত্রবচন শুনে স্পষ্টই বুঝতে পারলেন।

তিনি তখন অত্যন্ত বিনয় বচনে ধীরে ধীরে মহাদেবকে বললেন-হে দেব! আপনার মুখে সমস্ত শাস্ত্রবচন শুনলাম। আপনার পায়ে আমার ভক্তিপূর্ণ নমস্কার।

এখন আপনার নিকট আমি যা জানতে চাই, আশা করি তা আমার কাছে বর্ণনা করে আমার মনের কৌতূহল নিবৃত্ত করতে নিশ্চয়ই সচেষ্ট হবেন।

নারীজাতির ঋতুলক্ষণের বিষয় শোনবার জন্যে আমার একান্ত কৌতুহল হয়েছে। অর্থাৎ নারীজাতি যখন প্রথম রজঃস্বলা (প্রথম ঋতুস্রাব) হয় তার তিথি, মাস, নক্ষত্র, বার প্রভৃতি দোষ-গুণে কিরূপ ফল পায় তা কৃপা করে আমাকে বলুন।

ঋতুস্রাব

এতং ত্বয়েরিতং সব্বং নমস্তেহস্তু নমােনমঃ।।

আধুনা ক্ৰহি মে দেব নারীণাং ঋতুলক্ষণং ।

দেবীর কথায় মহাদেব সন্তুষ্ট হলেন।

তিনি বললেন –হে দেবি ! এবারে আমি নারীদের ঋতুলক্ষণগুলি একে একে বর্ণনা করছি, তুমি তা শ্রবণ কর এগুলি শুনলে রতিশাস্ত্রে বিশেষ জ্ঞানলাভ হয়ে থাকে ।

সবার আগে তিথিফল অর্থাৎ কোন্ তিথিতে আদ্যঋতু হলে কিরূপ ফল হয় সে বিষয়ে বলতে উদ্যত হয়েছি। তুমি নিবিষ্ট মনে আমার বাক্য শ্রবণ কর।

শূণু দেবি প্রবক্ষ্যামি নারীণাং ঋতুলক্ষণং।।

যচ্ছা জায়তে জ্ঞানং রতিশাস্ত্রে মহেশ্বরি।

তাদৌ তু প্রবক্ষামি তিথিনাং ফলমুত্তমং ।

শৃণুকৈমনা ভূত্বা রতিশাস্ত্রোদিতং যথা।।

আদখা হয় তিথিল মহাদেব বললেন-হে দেবি !

এখন প্রথম ঋতুস্রাব (আদ্যঋতুর) তিথিফল শােন।

প্রথমা অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে যে নারীর ঋতুপদ্ম বিকশিত হয়, যে নারী শমনভবনে যায় অর্থাৎ অল্পদিনে তার মৃত্যু হয়, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

হে প্রিয়ে! যদি দ্বিতীয়া তিথিতে কোন নারী প্রথম ঋতুস্রাব হয়, তাহলে সেই নারীর স্মৃতিশক্তির তীক্ষ্ণতা কমে যায়, এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন শাস্ত্রবিদ পণ্ডিতেরা।

হে মহেশ্বরি! তৃতীয়া তিথিতে যদি নারীজাতির কমল বিকাশপ্রাপ্ত হয় তাহলে তার ঋতু বিফল হয়ে যায়। তাতে কোন সন্তান জন্ম হয় না।।

হে প্রিয়ে! তার পরবতী ঋতুদর্শনের বর্ণনা শােন। চতুর্থী তিথিতে কোন নারী যদি প্রথম ঋতুদর্শন করে, তা হলে সে বন্ধ্যা হয়ে থাকে।

যদি পঞ্চমী তিথিতে কোন নারী ঋতুদর্শন করে, তা হলে সে অল্পদিনের মধ্যে মারা যায়। এ কথা শাস্ত্রের বচন।

ষষ্ঠী তিথিতে যদি কোন নারী আদ্যঋতু দর্শন করে তবে তার অবস্থা প্রথমার মত হয়, অর্থাৎ সেও অল্পদিনের মধ্যে মারা যায়। এ কথা নিশ্চিত সত্য।।

সপ্তমী তিথিতে কোন নারী আদ্যঋতু দর্শন করলে সে হয় কাকবন্ধ্যা, আর অষ্টমী তিথিতে আদ্যঋতু যদি নারীর হয়, সে হয় নাগিনীস্বরূপা অর্থাৎ মন হয় হিংসুটে ও বিদ্বেষভাবাপন্ন।

হে দেবি, যে নারী নবম তিথিতে প্রথম ঋতুদর্শন করে, তাকে নারী জাতির মধ্যে উৎকৃষ্টা বলে জানা যায়। সে নারী সুসন্তানের জননী হয়।

কিন্তু দশমী তিথিতে আদ্যঋতু দর্শন করলে সেই নারী হয় রাক্ষসী স্বরূপ অর্থাৎ রাক্ষসীর মত ভয়াবহ। এটি যে নিভূল কথা, তা শাস্ত্রকারগণ স্বীকার করেছেন।

একাদশী তিথিতে কোনও নারী যদি প্রথম ঋতুস্রাব দর্শন করে তবে তাকে ডাকিনী বলে জ্ঞান করবে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

দ্বাদশী তিথিতে যে কন্যা ঋতুমতী হয় তাকে যোগিনী বলে জ্ঞান করতে হবে।

ত্রয়ােদশী তিথিতে যে নারী আদ্যঋতু দর্শন করে, সে খুবই পতিব্রতা ও পতিভক্তিপরায়ণা। সে আদর্শ গৃহিণী হয়, এটি শাস্ত্রের কথা।

চতুর্দশী তিথিতে যদি কোনও নারী আঋতু দর্শন করে তবে সে লক্ষ্মীভ্রষ্টা হয় অর্থাৎ তার ধন-দৌলত নষ্ট হয়।।

পূর্ণিমা তিথিতে যদি কোনও নারী ঋতুমতী হয়, তাকে দেবীরূপিণী অর্থাৎ সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী বলে জ্ঞান করবে।

আর যদি অমাবস্যা তিথিতে কোনও নারী ঋতুমতী হয় তবে সে জরা রোগ ইত্যাদিতে ভুগে থাকে।

এগুলি শাস্ত্রোক্ত ভাষায়

বিসতি যদা পদ্মং প্রথমায়াং মহেশ্বরি।

অচিরাৎ মিয়তে সৈব নাত্ৰ কাৰ্যা বিচারণা ।

দ্বিতীয়ায়াং ভবেন্নারী যদি রজস্বলা প্রিয়ে।।

স্মৃতেলে পা ভবেশ্চৈব ইতি শাস্ত্রবিদাং মতং ।

বিসতি যদা পদ্মং তৃতীয়ায়াং মহেশ্বরি।

ঋতুব্যথা ভবেন্নারী শৃণু-তৎপরতাে যথা।

পঞ্চমাং মিয়তে নারী চতুর্থী বন্ধকী তথা।

ষষ্ঠ্যাং বিসতি পদ্মং পঞ্চমী ফলমায়া ৷৷

সপ্তম্যাং কাকবন্ধ্যা ত অষ্টম্যাং নাগিনী ভবেৎ।

মানবজাতিয়াং বিদ্যাং নবম্যাং দেবী সত্তমে।

বিসতি যদা পদ্মং দশম্যাং পক্ষয়ােদ্দয়েন।

রাক্ষসী সা ভবেন্নারী গীয়তে তু মনীষিভিঃ।

একাদশাস্তিথৌ নারী যদি রজোবতী ভবেৎ।

ডাকিনী তাং বিজানীয়াৎ নাত্ৰ কাৰ্য্যা বিচারণা।

দ্বাদশ্যাং যােগিনী চৈব যদি কন্যা রজস্বলা।

পতিব্রতা ভবেশ্চৈব ত্রয়ােদশাং মহেশ্বরি ।

লক্ষ্মীহীনা চতুর্দশাং কীৰ্ত্তিতং বিবুধৈরিতি ।

পূর্ণিমায়াং ভবেন্নারী দেবী সা লক্ষ্মীরূপিণী ।

অমবস্যাস্তিথৌ নারী যদি রজস্বলা ভবেৎ।

জরাব্যাধি সমাকীর্ণা নাত্ৰ কাৰ্য্যা বিচারণা।

যৌন মিলন ঋতুর কোন তারিখের করলে কি রকম সন্তান হয়।

সূত্রঃ বৃহৎ রতিশাস্ত্র