Select Page
মারেফত কি এবং মারেফত কাকে বলে। ইলমে মারেফাত জাগরনের পদ্ধতি।

মারেফত কি এবং মারেফত কাকে বলে। ইলমে মারেফাত জাগরনের পদ্ধতি।

মারেফত কি? 

মারেফত হলো উপলব্দি জ্ঞান যা হৃদয় দ্বারা উপলব্দি করতে হয়। প্রত্যেক জিনিস বা প্রত্যেক কর্মের দুটি দিক রয়েছে, একটি হলো বাহ্যিক বা স্থুল আর অপরটি হলো অভ্যন্তরিন বা সূক্ষ। স্থুল জ্ঞান দিয়ে বাহ্যিক অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু স্থুল জ্ঞান দিয়ে সূক্ষ বিষয় উপলব্দি করা যায় না। সূক্ষ জ্ঞান দিয়ে সূক্ষ বিষয় উপব্দি করতে হয়। আর মারেফত উপলব্দি করতে হলে সূক্ষ জ্ঞান দরকার।

অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায়, প্রত্যেক জিনিসের বা কর্মের মূল লক্ষ্য বা তাৎপর্য রয়েছে। মারেফত হলো কোন বিষয়ের তাৎপর্য জ্ঞান যা সূক্ষ উপলব্দি ক্ষমতা দ্বারা বুঝতে হয়।

সুতরাং মারেফত হলো সূক্ষ জ্ঞান, উপলব্দি জ্ঞান। এটা বর্ননা দিয়ে বুঝানোর বিষয় নয়, হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করার বিষয়।

জালাল উদ্দিন রুমি

মারেফত নিয়ে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহঃ) এর মন্তব্য-

মারিফত নিয়ে বিখ্যাত আধ্যাত্বিক মহাপুরুষ জালালুদ্দিন রুমি (রহঃ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ মসনবী শরীফ এ কিছু কথা লিখেছেন। নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরলাম।

চুঁ বছুরাত্‌ বেংগরী চশমাত দো আস্ত,
তু ব নূরাশ দর্‌ নেগার কানে এক্‌ তু আস্ত।
লা জেরা মচুঁ বর একে উফ্‌তাদ নজর,
আঁ একে বীনি দো না আইয়াদ দর্‌ বছর।
নূরে হর দো চশ্‌মে না তাওয়াঁ ফরকে করদ,
চুঁকে দর নূরাশ নজরে আন্দাখতে মর্‌দ।
উ চেরাগ আর হাজের্‌ আইয়াদ দর্‌ মকান,
হরি একে বাশদ্‌ বছুরাতে জেদ্দে আঁ।
ফরকে না তাওয়াঁ করদ নূরে হরি একে,
চুঁ ব নূরাশ রুয়ে আরী বে শকে।
উত্‌লুবুল মায়ানী মিনাল ফরকানে কুল।
লা নু ফাররেকু বাইনা আহাদেম্‌ মের রুছুল
গার তু ছাদ ছীবো ও ছদাই ব শুমারী,
ছাদ নুমাইয়াদ এক বুদ্‌ চুঁ ব ফেশারী
দর মায়ানী কেছমতে ও আদাদে নীস্ত,
দর মায়ানী তাজ্‌ জীয়া ও আফরাদে নীস্ত।

অর্থ: মাওলানা বলেন, ” আমি এই মারেফাত সম্বন্ধে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করিতাম, কিন্তু ভয় করি যে, কাহারও অন্তঃকরণ বিগ্‌ড়াইয়া না যায়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম রহস্য। ফালাদ লোহার তরবারীর ন্যায় অত্যন্ত ধারাল। যদি তোমার নিকট ঢাল না থাকে, তবে পিছনে হটিয়া যাওয়াই উত্তম। এত সূক্ষ্মও তীক্ষ্ণ বিষয় ঢাল ব্যতীত আলোচনা করিতে অগ্রসর হওয়া উচিত না। কেননা, তরবারী কাটিতে কখনও লজ্জা বোধ করে না। এই রকমভাবে এই তীক্ষ্ম বিষয় যখন ভ্রান্ত ধারণার অন্তঃকরণে পতিত হইবে, তখন তাহার ঈমান নষ্ট হইয়া যাইবে। এইজন্য আমি আমার তরবারী কোষাবদ্ধ করিয়া রাখিলাম। তাহা হইলে কোনো তেড়া বুঝের লোক বিপদে পড়িবে না।”

আব্দুল কাদের জিলানী

মারেফত নিয়ে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর মন্তব্য-

মারেফত এর সাথে সৃষ্টির মুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই আধ্যাত্বিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) তার সিররুল আসরার গ্রন্থে লিখেছেন, সৃষ্টির মুলে (হাকিকতে) পৌছতে হলে মারেফতের জ্ঞান অপরিহার্য। মারেফতের জ্ঞান ছাড়া লক্ষ্যস্থলে পৌছানো সম্ভব নয়।

অর্থাৎ মানব জনমের উদ্দ্যেশ্য হলো পুন্য কর্ম দ্বারা লক্ষ্যস্থলে হাকিকতে পৌছা। হাকিকতের চরম লক্ষ্যস্থলে পৌছতে হলে মারেফত বা আধ্যাত্বিকতার মধ্যদিয়ে পৌছাতে হয়। আধ্যাত্বিকতা বা মারেফত ছাড়া হাকিকতে পৌছার আর কোন রাস্থা পৃথিবীতে নেই। আর পৃথিবীতে যত মত পথ ধর্ম এবং এবাদত রয়েছে প্রত্যেকেরই লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য হলো হাকিকতে পৌছা। কারন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলেই হাকিকতের কেন্দ্রবিন্দু আলমে আরওয়াহ থেকে এসেছি। আর যেখান থেকে এসেছি সেখানে ফিরে যাওয়াই মানুষ্য জনমের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য।

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত আধ্যাত্বিক মহাপুরুষ জালাল উদ্দিন রুমি (রহঃ) তার বিখ্যাত মসনবী শরীফে লিখেছেন, ” মাওলানা বলেন, আমরা আলমে আরওয়াহ্‌র (রূহের জগতের) মধ্যে একই পদার্থ ছিলাম; সেখানে কোনো ভাগাভাগি ছিল না, আর কোনো সংখ্যাও ছিল না। সেখানে আমাদের দেহের কোনো অস্তিত্ব-ই ছিলনা। সূর্যের ন্যায় একই আলো জ্বলিতেছিল। পানির মত স্বচ্ছ পদার্থ ছিলাম। যখন খাটিঁ নূর ইহ-জগতে দেহরূপ ধারণ করিয়া আসিল, তখন বিভিন্নরূপ ধারণ করিয়া সংখ্যায় পরিণত হইল। প্রত্যেক দেহের সাথে রূহের সম্বন্ধ স্থাপিত হইল। যেমন পাথরের কণায় সূর্যের কিরণ পতিত হইলে প্রত্যেক কণায় পৃথক পৃথক আলো দেখায়, সেইরূপ আমাদের দেহে রূহের আলো আসিয়া পৃথকভাবে সংখ্যায় পরিণত করিয়াছে।।” অর্থাৎ আমরা আলমে আরওয়াহ বা স্রষ্টার অখন্ড সত্ত্বা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে সৃষ্টি হয়ে এসেছি। তখন আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিলো স্রষ্টাকে সর্বক্ষন মনে রাখব। এক মুহুর্তের জন্য স্রষ্টাকে ভুলবনা। জগতে এসে যে কোন কাজই করিনা কেন এক মুহুর্তও স্রষ্টার স্বরন ছাড়া থাকবনা। কিন্তু বিষয়টা ঘটলো উল্টও। আমরা প্রতি মুহুর্তই স্রষ্টাকে ভুলিয়া রইলাম। এর পর স্রষ্টা আমাদের জন্য একের পর এক ধর্ম গ্রন্থ প্রেরন করতে থাকলেন এবং প্রত্যেক ধর্ম গ্রন্থে এবাদতের বিভিন্ন নিয়ম বেধে দিলেন যাতে করে কমপক্ষে এবাদতের সময়টাতে তাকে স্বরন করা যায়। কিন্তু হায়! দুঃখের বিষয় মানুষ সারাদিন তাকে স্বরন করবে তো দুরের কথা অল্প সময়ের জন্য শরীয়তি বা বাহ্যিক এবাদতের সময়ও মানুষের মন সৃষ্টিকর্তার স্বরন ধরে রাখতে পারেনা। মানুষের মন ছুটে বেড়ায় দুনিয়াবি নানা কাজ কর্মে। মানুষের এবাদত হয়ে যায় অন্তঃস্বারশুন্য একটা পদ্বতি মাত্র। অর্থাৎ মানুষ এবাদতের নামে শুধুমাত্র অন্তঃস্বারশুন্য কিছু পদ্বতি পালন করে চলছে।

মারেফতের বা আধ্যাত্বিকতার সংজ্ঞা

আধ্যাত্বিকতাকে অল্প কথায় সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। কারন আধ্যাত্বিকতার মুলের সাথে রয়েছে সৃষ্টির মুলের গভীর সম্পর্ক। যেখানে আধ্যাত্বিকতার প্রকাশ রয়েছে বুঝতে হবে এটা সৃষ্টির মুলেরই প্রকাশ। অর্থাৎ আধ্যাত্বিকতা যেখান থেকে উৎপত্তি এই ভ্রম্মান্ড সেখান থেকই উৎপত্তি। আর কেউ যদি এই আধ্যাত্বিকতার চরম সীমায় পৌছতে পারে তবে সে সৃষ্টির আদি অন্ত সব জানতে পারে এবং সমগ্র সৃষ্টি নিয়ন্ত্রন সে করতে পারে।

মারেফত বা আধ্যাত্বিকতার সীমানা বা শেষ কোথায়?

 

আর যখন কেউ আধ্যাত্বিকতার শেষ সীমানায় পৌছে যায় তখন তার দুনিয়ার প্রতি আর আকর্ষন থাকেনা। তার মাঝে দুনিয়ার আর কোন কামনা বাসনা থাকেনা। তার মন শিশুর মত নির্মল ও পবিত্র হয়ে যায়। তখন সে দেখতে পায় দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টি তার অধিনে রয়েছে। তখন তার মনে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা থাকেনা সৃষ্টিকে পরিবর্তন করার। এই জন্য বলা হয় যাদের মাঝে বিন্দুমাত্র দুনিয়ার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তারা আধ্যাত্বিকতার শেষ সিমানায় পৌছতে পারেনা।

আধ্যাত্বিকতার সীমানা যে কত প্রসারিত তা আমাদের ধারনারও বাহিরে। কারন আধ্যাত্বিকতার সীমানার কাছে আমাদের জ্ঞান খুবই নগন্য। আমাদের এই ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে আধ্যাত্বিকতার পরিধি বিশ্লেষন করা আসাধ্য বিষয়। যারা আধ্যাত্বিকতায় পরিপুর্নতা লাভ করেছে কেবল তারাই এর মর্ম বুঝতে পারবে। আধ্যাত্বিকতা ভাষায় বর্ননা দিয়ে বুঝানো যায়না। এটা বুঝতে হলে প্রখর অনুভুতি শক্তি থাকা চাই। কারন অনুভুতির মাধ্যমে এটা উপলব্দি করতে হয়। বিখ্যাত আধ্যাত্বিক মহাপুরুষ জালাল উদ্দিন রুমি বলেছেন,যদি সুর্য পৃথিবীর কাছে চলে আসে তবে পৃথিবী জ্বলে পুরে ছার কার হয়ে যাবে। অনুরুপভাবে কারো হৃদয়ে যদি হঠাত আধ্যাত্বিকতা প্রকাশ পায় তবে তার হৃদয় জ্বলে পুরে যাবে।

উপরেরর কথাগুলি গভীর উচ্চমার্গের কথা। সচরাচর আমরা আধ্যাত্বিকতা নিয়ে এত গভীরে ভাবিনা। কারন জগতের বড় বড় আধ্যাত্বিক লোক সম্পর্কে আমরা খুজ খবর রাখিনা এবং তাদের জীবনে আধ্যাত্বিকতা অর্জন করতে গিয়ে কত ধাপ অতিক্রম করেছেন তা আমরা জানতে চাই না। নিজের মধ্যে আধ্যাত্বিকতার অল্প ছুয়াতে আমরা মনে করি আমরা আধ্যাত্বিক হয়ে গেছি।

এমন কি কোন লোকের মধ্যে যদি অলৌকিকতা বা বিরাট কারামতি ও প্রকাশ পায় তবুও বুঝতে হবে এগুলো আধ্যাতিকতার শেষ সীমানার তুলনায় খুবই নগন্য। তবে অলৌকিকতা প্রকাশ হওয়া এটাও কোন সাধারন বিষয় নয়। অলৌকিকতা বা কারামত প্রকাশ কেবল উচ্চপর্যায়ের আধ্যাত্বিক মহাপুরুষদের বেলায় হয়ে থাকে।

মারেফত বা আধ্যাত্বিকতা এবং পুর্ন বা চরম আধ্যাত্বিকতা

 

আমিও একসময় এই ভুলের মধ্যে ছিলাম। আমি ২০০৭ সালের ২৭ শে মার্চ থেকে ধ্যান সাধনা শুরু করেছিলাম। প্রথম বছর ধ্যান করার পর আমার মধ্যে প্রচুর শারীরীক ও মানষিক পরিবর্তন লক্ষ্য করি। হৃদয়ে ও অনুভুতির বিরাট পরিবর্তন হওয়ার ফলে আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম আমি বিরাট আধ্যাত্বিক লোক হয়ে গেছি। আমি বর্তমানে ২০২১ সালে এসেও আমার ধ্যান সাধনা চালিয়ে যাচ্ছি।  কিন্তু ধ্যান সাধনা করতে করতে বর্তমানে ২০২১ সালে এসে যতই ধ্যানের গভীরে পৌছতে থাকি থতই দেখতে পাই যে আধ্যাত্বিকতার শেষ সীমানায় পৌছা একটা দুর্লভ বিষয়।

এখন আমি কোন পর্যায়ে এসে এসব কথা বলতেছি আমার শরীরের লক্ষন সম্পর্কে কিছুটা বর্ননা দিলে যারা আধ্যাত্বিকতা সম্পর্কে বুঝে তারা কিছুটা বুঝতে পারবে। আপনারা হয়ত বিখ্যাত আধ্যাত্বিক মহাপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দ ও ফকির লালন সাঁই এর কথা শুনেছেন। তাদের লেখনিতে আধ্যাত্বিকতা নিয়ে গভীর তত্ব পাওয়া যায়। স্বামী বিবেকানন্দের লিখা রাজযোগ গ্রন্থতে তিনি লিখেছেন ধ্যান সাধনার কোন এক পর্যায়ে এসে মানব শরীরে কুরুকুন্ডলী জাগ্রত হয়। আমি ধ্যান সাধনা শুরু করার এক বছর পরে আমার দেহে কুরুকুন্ডলি জাগ্রত হয়ে গিয়েছিল। তখন কুরুকুন্ডলী শব্দের সঙ্গে আমার কোন পরিচয় ছিলনা। কুরুকুন্ডলী জাগার অনেক দিন পরে যখন আমি রাযযোগ বইটা পড়েছি তখন বুঝতে পেরেছি এটার নাম কুরুকুণ্ডলী। আর ধ্যান সাধনা শুরু করার অনেক দিন পর যখন মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহঃ) এর মসনবী শরীফ পড়লাম তখন দেখলাম, মোরাকাবা মোশাহেদার (ধ্যান) কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন,” মোরাকাবার প্রথম অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করলেও এতে ভয় পাওয়ার কারন নাই।

ধ্যান সাধনা ও কুরুকুন্ডলী জাগরন

 

কুরুকুণ্ডলী জাগার পরে মেরুদন্ডের নিচ থেকে উপরের দিকে যে এক প্রশান্তির ধারা বইতে থাকে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। যত একা থাকবেন প্রশান্তির ধারা তত আধিক পরিমানে বাড়তে থাকবে। তাই আমি ২০০৬ সালের ২৭ শে মার্চের পর থেকে ২০২১ অবধি পর্যন্ত আমি একা থাকতে খুবই পছন্দ করি এবং বেশির ভাগ সময়ে একাই থাকি।

কুরুকুন্ডলী হলো এমন একটি শক্তি যা মেরুদণ্ডের গুরা থেকে উৎপন্ন হয়। বড় বড় আধ্যাত্বিক মহাপুরুষদের ভাষায় পৃথিবীতে গোটা কয়েক সৌভাগ্যবান মানুষের মধ্যে কুরুকুণ্ডলী জাগ্রত হয়।  কুরুকুণ্ডলী জাগ্রত হওয়ার পর শরীরে ভিতরে আরও কত লক্ষন যে প্রকাশ পায় তা বলার বাহিরে। যাইহোক বড় বড় আধ্যাত্বিক লোকদের শাস্ত্র পড়ে জানা যায় যে কুরুকুণ্ডলী দেহের মধ্যে জাগরিত হওয়া সাধারন বিষয় নয়। খুব অল্প লোকের মধ্যেই এগুলা প্রকাশ পায়। আর এই দীর্ঘ সময় ধ্যান সাধনা করার পর যখন আমি উপলব্দি করার চেষ্টা করলাম আধ্যাত্বিকতার শেষ কোথায় তখন আমি বোবা হয়ে গেলাম। এতদিন পর আমি ভাবতে লাগলাম আধ্যাত্বিকতার যাত্রা এখন শুরু করলাম মাত্র।

সুতরাং পুর্ন আধ্যাত্বিকতা অর্জন করা যে কত বড় কঠিন কাজ আমরা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি। আধ্যাত্বিকতা অর্জন করতে হলে দীর্ঘ সময় কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।

ডাঃ শাহীনুর আহমেদ চৌধুরী (আধ্যাত্বিক সাধক)
মসনবী শরীফ

মসনবী শরীফ

মসনবী শরীফ

১ম -খন্ড

অধ্যায়-০১ বিষয়ঃ প্রেম-বিরহ

বিশনু আজ না এচু হেকাইযে মিকুনাদ,

ওয়াজ জুদাই হা শিকাইয়েত মীকুনাদ।

অর্থ: মাওলানা রুমী (রহ:) বলেন, বাঁশের বাঁশি যখন বাজে, তখন তােমরা মন দিয়া শােন, সে কী বলে। সে তাহার বিরহ বেদনায় অনুতপ্ত হইয়া ক্রন্দন করিতেছে।

কাজ নাইয়াছতান তা মরা ব বুরিদাহআন্দ,

আজ নফিরাম মরদো জন নালিদাহআন্দ।

অর্থ: বাঁশি বলে আমি বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে আপন জনের সাথে সুখে শান্তিতে বসবাস করিতেছিলাম। সেখান থেকে আমাকে কাটিয়া পৃথককরিয়া আনা হইয়াছে। সেই জুদাইর কারণে আমি ব্যথিত হইয়া বিরহ যন্ত্রণায় ক্রন্দন করিতেছি। আমার বিরহ ব্যথায় মানবজাতি সহানুভূতির ক্রন্দন করিতেছে।

মসনবী শরীফ থেকে কিছু কালাম এবং জালাল উদ্দিন রুমি (রহঃ) এর জীবনী