Select Page

জ্ঞানার্জন

জ্ঞানার্জনঃ শিক্ষা বা জ্ঞানার্জনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। শেষ আছে ভেবে আমরা মাথামোটা কেউ কেউ নিজেকে জ্ঞানী ভাবতেই পারি, যা বোকার রাজ্যে বসতী করে বদ্ধগারদে আবদ্ধ হয়ে নিজের অজ্ঞতা ও অহমিকার চর্চা মাত্র।
বদ্ধদ্বারে আবদ্ধ এই জীবগুলী হয় পশু, না হয় দেবতা। যেহেতু সমাজ সভ্যতা আমাদের মূল্যায়ন করছে না, অর্চনা বা পূজা করছে না, তাহলে এটা নিশ্চিত আমরা দেবতা নই। হয়তো মানুষরূপে পশুত্বে আবৃত বা আবদ্ধ হচ্ছি। নতুবা অভিশপ্ত ও অশুভ শক্তি প্রেতাত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষরূপে তারই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।

কথায় বলে, ফকিরের পায়ে লক্ষ্মী, পুরাতন প্রবাদ বলে, যেখানে দেখিবে ছাই উড়িয়ে দেখিবে তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।
যদিও সকল ছাইয়ের স্তূপে অমূল্য রতন পাওয়া যায়নি। তবুও থেমে থাকেনি জ্ঞান পিপাসু সাধক ফকিরের পদচারণা, নৈরাশ্য হয়নি অন্বেষনে ব্রত তপস্যারত কাঙ্গালীরা, বিফল হয়নি সৃষ্টিশীলতা, মেধা ও মননের শতস্ফূর্ত বিকশিকতা।
তবুও তারা অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেই ছুটে চলেন সংগ্রহের অন্বেষায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাস্তবতায়, উঁচু তলা থেকে নিচু তলায়। সর্বত্র।

প্রকৃতার্থে, জ্ঞানার্জনে বা সংগ্রহে যারা ব্রত, তাদের কাছে সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা ও উঁচুনিচু ভেদাভেদ বা মানসিকতা থাকবে না। তারা ত্যাগী বিনয়ী, ধৈর্য্যশীল ও কষ্টসহিষ্ণু জ্ঞান পিপাসু। নতুনত্ব, সৃষ্টি, সংগ্রহ ও অর্জনই তাদের প্রতিপাদ্য বিষয়।
ভাল কোন বিষয় বা পরিবেশ থেকে যতটা বাস্তবিক জ্ঞানার্জন সম্ভব, তারচেয়ে বেশী বাস্তবিক জ্ঞানার্জন সম্ভব মন্দ কোন বিষয় কিংবা নোংরা কোন পরিবেশ থেকে, যা অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য ও অর্জন বা ধারনাপ্রসূত।
সাত তলায় বসত করে নিচ তলার পরিবেশ বুঝে উঠা কষ্টসাধ্য বিষয়। তাই অর্জনের স্বার্থে অন্তত সমভাবে বসতী স্থাপন, যাতায়াত ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। যা মূলতঃ অন্বেষণ বা অর্জনের প্রচেষ্টা মাত্র।
ক্ষুদ্র মৌমাছি অক্লান্ত পরিশ্রম করে মধু সংগ্রহ করে, যা আমরা সুমিষ্টি স্বাদ গ্রহন করি। বিভিন্ন ফুল ফলের পাশাপাশি, সে বিভিন্ন নোংরা নর্দমা, পচাঁবাসী ও আবর্জনা থেকেও রস বা মধু সংগ্রহ করে থাকে। আমরা তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার মূল্যবান ধন খাঁটি মধু চড়াদামে সংগ্রহ করি, তৃপ্তি ও স্বাদ উপভোগ বা গ্রহন করি।
শিক্ষা, জ্ঞানার্জন বা অন্বেষণের বিষয়টিও মৌমাছির অক্লান্ত পরিশ্রমের ধন বিন্দু বিন্দু মধু সংগ্রহের মতোই ত্যাগী ও সৃষ্টিশীল মানসিকতা। শুধু ফুল ফল থেকে যেমন মধু সংগ্রহ যথেষ্ট নয়, তেমনি সংকীর্ণ বা সীমাবদ্ধ কোন সমাজ বা পরিবেশ থেকে জ্ঞানার্জন বা সংগ্রহ পর্যাপ্ত নয়। সমাজের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিন্ম শ্রেণীর সর্বত্রই আহরণ ও সংগ্রহের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। শুধু নির্ধারিত একটি শ্রেণী বা সমাজ থেকে আংশিক, সীমিত বা সীমাবদ্ধ অর্জন বা সংগ্রহ সম্ভব। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন সমাজ, পরিবেশ ও জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধতা পেড়িয়ে সীমাহীন ও পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন, আহরণ ও সংগ্রহ সম্ভব। যা বিশ্বব্যাপী।
তাই বোকার রাজ্যের বসতী ত্যাগ করে, আমাদের হিংসা ও অহমিকা পরিহার করে, বেড়িয়ে পড়তে হবে জ্ঞানার্জনে, সংগ্রহ ও অন্বেষণে।
সৃষ্টিশীলতা ও মেধার সমন্বয়ে দূরীভূত হবে আমাদের পশুত্ব, অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা।
আমরা হবো নন্দিত, প্রশংসিত ও উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী উন্নত জাতি। বিকশিত হবে মানবতাবোধ, জনকল্যাণ ও শান্তি।
জাগ্রত হবে বিবেক, বিবেচনাবোধ ও মনুষ্যত্ব।
———–
ধন্যবাদান্তে-
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।
তাং ১৩/১০/২০১৭ ইং।

মায়াময় জগত কবিতা

মায়াময় জগত কবিতা

এস.সি রিয়াজ

মায়াময় জগতে আপন কি, তা জানা হলো না।
একি রূপবতীর গর্ভে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর কান্নার আর্তনাদ, তাও বুঝা গেলো না।
অবহেলা সংশয়ে কেটে গেলো যৌবনের শেষ প্রহরগুলী।
তবুও বেছে আছি অজ্ঞ অবুঝ ভেবে, প্রেরণাহীন তোমাদের মাঝে।
আর কত দিন, কত পথ?
ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য ধৈর্য্যের কতদূর?
কবে জানি নিঃশেষ হবে, এই বিড়ম্বিত ক্লান্ত রথ।

আমি তোমাদেরই মাঝে ছিলাম, মতাদর্শে অমিল এক নগণ্য বেকুব।
কখনো বুঝিনি এমন দূরত্ব; সৃষ্টি, মানবতা ও মনুষ্যত্ব।
আঘাত হেনেছি কভু সৃষ্টিসুখের আশায়, আলো ছড়ানোর নেশায়।
ঘুমন্ত মানবতায়, মনুষ্যহীনতায়!
প্রজ্জ্বলিত আলোক বর্তিকায় নতুন প্রজন্মের জয়োগানে

মেধা ও মননের বিকাশে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন ও উন্নত, সততা মনুষ্যত্ব ও মানবতার

নবদিগন্ত বিনির্মানের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশায়।
ক্ষতবিক্ষত হয়েছো তীরন্দাজের আঘাতে, তবুও ক্ষমা কর আমায়।

আমি পারিনি মিশে যেতে বিসর্জনে, তোমাদের সাথে কালো গঙ্গায়।
আদর্শচ্যুতি নাড়া দেয় বুকে, আমাকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখায়।
ভীত আমি পথভ্রষ্ট, বিপথগামী আত্মঘাতী হতে পারিনি, হৃদয়ে তবুও রক্তক্ষরণ।
আমি পারিনি মায়াবন্ধনে আবদ্ধ হতে, তোমাদের মোহময়ী সংস্কৃতি আর প্রলুব্ধ ভালবাসায়।

হারিয়ে যাই সবই, শূন্য হস্তে আপন ঠিকানায়।
কার্পণ্যহীনতায় তবুও বলে যাই,
আমি তোমাদেরই মতাদর্শে অমিল, সর্বহারা এক নিঃস্ব যুবক।
তবুও ক্ষমা কর আমায় বিদায় অবেলায় শেষ দেখায়।
————————-
তাং-০৭/১০/১৭ইং।
– এস.সি রিয়াজ।
হবিগঞ্জ।

গণতন্ত্র দিবস

গণতন্ত্র দিবস

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি গনতন্ত্র ও দেশপ্রেমী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর থেকেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ দিবসটিতে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব রাষ্ট্রগুলিকে তাদের নিজ নিজ জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের গুরুত্ব তাৎপর্য, মূলনীতি আদর্শ ও উপাদান, গনতান্ত্রিক সরকারের চর্চা ও আচরণ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং গনতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরী, মূল্যবোধ কার্যকরকরণ ও সম্প্রসারণের আহবান জানানো হয়।

গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারী প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার রয়েছে।
মূলতঃ জনগণের মতামতই হয় সরকার পরিচালনার ভিত্তি। কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়ে উঠে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরীর ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়। প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ বা রাষ্ট্রে ব্যক্তি বা নাগরিকের অধিকার মর্যাদা সমুন্নত থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কখনো মানুষকে দাসে পরিণত করা যায় না। একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বা সমাজেই কেবলমাত্র মানুষের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত যায়।

কিন্তু সারাবিশ্বে বহু গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নামে সাধারণ জনগণের ইচ্ছা, আগ্রহ ও স্বাধীনতাকে ভূলুন্ঠিত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে চলেছে। এই দুঃশাসনের কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হচ্ছে আমাদের আজকের বাংলাদেশ ও তার জনগণ। বর্তমান রাজনীতিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধর পরিস্থিতি ও সংকুচিত করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার, বাক ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বহুবিধ কালো আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা হয়েছে। দেশে একনায়কতান্ত্রিক দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা ও পাকাপোক্ত করণের লক্ষ্যে ভিন্ন দল মতের মানুষকে মামলা হামলা, জুলুম অত্যাচার, গুম খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে।

যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস সেখানে জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পছন্দের জনপ্রতিনিধি বা সরকার গঠনের পদ্ধতি বাতিল করে গনতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থার পথকে রুদ্ধ বা ধ্বংস করা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের নামে দেশের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রহসন, প্রতারণা ও তামাশা করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনের পূর্বে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে বিনা ভোটের একটি অবৈধ অগণতান্ত্রিক ভোট ডাকাত সরকার গঠন করা হয়েছে। অনৈতিক বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করতে ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইন আদালত ও বিচারব্যবস্থা তাদের আজ্ঞাবহ তাবেদার বা ফরমায়েসী গোলাম হয়ে কার্যসম্পাদন করছে, রায় বা বিচারকার্য পরিচালনা করছে। তাদের কোন স্বতন্ত্রবোধ, স্বাধীনতা বা ব্যক্তিত্ববোধ বলে কিছু নেই বললেই চলে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক আদালতে তার জামিন পাওয়ার গনতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে কিন্তু সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিভিন্ন সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীসহ রাষ্ট্রের নাগরিক বৃন্দ। এভাবে প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট বা প্রতিষ্ঠানই পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ বেশ্যাবৃত্তিতে নির্লিপ্ত হয়ে নির্বোধ নির্লজ্জ ও চরিত্রহীন দাসত্বের জীবনযাপন করছে।

প্রশাসন ও আমলা কামলা নির্ভর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এমন বিপর্যস্ত ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণের জন্য আজকের গনতন্ত্র দিবসে গনতন্ত্রের গুরুত্ব তাৎপর্য, মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও নীতি আদর্শ, সচেতনতাবোধ ও একটি গনতান্ত্রিক সরকারের আচরণ ও জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সারাদেশের জনগণকে সচেতন করে তোলা খুবই জরুরী। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য যেকোন একটি সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় এই একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ বা ভোট ডাকাত সরকারের অধীনে কখনও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে না, অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
আজ জনগণের মৌলিক বা গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গনআন্দোলনের বিকল্প নেই। যুগেযুগে রক্ত ও জীবনোৎসর্গের মধ্যদিয়েই জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাই আসুন ভুলুন্ঠিত গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গনআন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন গনতন্ত্র দিবসে এই হউক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

ধন্যবাদান্তে-
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।

এম সাইফুর রহমান এর জীবনী

এম সাইফুর রহমান এর জীবনী

বৃহত্তর সিলেটের আরেক নাম এম. সাইফুল রহমানের ১২’তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশের সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান ৬ অক্টোবর ১৯৩২ সালে বর্তমান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দন গ্রামে পিতা শিক্ষানুরাগী আব্দুল বাসিত ও মাতা তালেবুন্নেছার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবনে এম. সাইফুর রহমান গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০ সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তারপর মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়ার পর দি এইডেড হাই স্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫১ সালে সিলেট মুরারী চাঁদ (এম.সি) কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ১৯৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় প্রতিবাদী ভূমিকার জন্য গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম ডিগ্রী অর্জন করে লন্ডনে চলে যান। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে অধ্যায়ন করেন এবং দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস (আইসিএইডাব্লিউ) থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ডিগ্রী অর্জন করেন।

এম. সাইফুর রহমান সফল শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৫৯ সালে ব্রিটিশ অক্সিজেন কোম্পানীতে উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ চাকুরীতে যোগ দিয়ে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শুভ সূচনা করেন। পাকিস্তানের করাচীতে নূতন কর্মস্থলে যোগ দেন কর্মবীর এম. সাইফুর রহমান। ব্রিটিশ অক্সিজেনের উচ্চ বেতনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসাবে পাকিস্তানের রাজধানী করাচীতে অবস্থান ও উচ্চ মহলের সঙ্গে চলাফেরা উঠাবসা করে এম. সাইফুর রহমান বাঙ্গালীদের প্রতি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিমাতা সুলভ হিংসাত্মক আচরণে মনে কষ্ট পান। ব্যতিত ও মনঃক্ষুণ্ণ হন। তাই বিলাসী জীবন ত্যাগ করে বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানীর উচ্চ বেতনের চাকুরী ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। তারপর ১৯৬২ সালে তিনি ইংল্যান্ডে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯৬২ সালে তার দুইজন সহকর্মীকে নিয়ে তিনি ”রহমান রহমান হক এন্ড কোম্পানী” নামে একটি নিরীক্ষা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পেশার প্রতি আনুগত্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রহমান রহমান হক এন্ড কোম্পানী সমগ্র পাকিস্তানের মধ্যে সর্ববৃহৎ একাউন্টেন্সী অডিট ফার্ম হিসাবে খ্যাতি ও স্বীকৃতি অর্জন করে, যা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার কৃতিত্বের স্মারক হয়ে আছে।

এম. সাইফুর রহমান ১৯৬২ সালে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনে প্রাইভেট সেক্টর হতে একমাত্র সদস্য মনোনীত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনেরও সদস্য ছিলেন।
এরই মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল মন্ত্রীসভার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুশতাক আহমদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও আশ্রয় প্রশ্রয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করলে দেশে এক প্রকট রাজনৈতিক সংকট ও শূন্যতা দেখা দেয়। ১৯৭৫ পরবর্তী দেশীয় রাজনীতির সংকট ও শূন্যতার মাঝে দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এম. সাইফুর রহমানকে অনুরোধ করেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীরউত্তম।
জিয়াউর রহমানের অনুরোধ ও অনুপ্রেরণায় ১৯৭৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এর মন্ত্রীসভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসাবে যোগদান করে জাতীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন এম. সাইফুল রহমান। ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিতে রূপান্তরিত হয়। এর আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন এম. সাইফুল রহমান, যার আহবায়ক ছিলেন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার- ৩ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমে বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরও তিনি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
১৯৮২ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করলে বিএনপির শীর্ষনেতাদের সাথে তিনিও গ্রেফতার হন। তারপর ৯০’এর ছাত্র ও গণ আন্দোলনে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সিলেট- ৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার- ৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশে মুক্ত বাজার সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রবর্তক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। সবচেয়ে বেশি সময়কাল ধরে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং মোট ১২ বার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড তৈরী করেন। বিএনপির সবকটি সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির আমরণ সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববরেণ্য এই রাজনীতিবিদ দেশীয় শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি বিদ্যালয় সমূহে ফুড কর এডুকেশন- শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী চালু করেন। তিনি বলতেন- Education is the foundation of Development. উন্নয়নের ভিত্তিই হল শিক্ষা- সেই লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচী চালু করে ছিলেন। এছাড়াও দেশ্যব্যাপী তার অসীম অগণিত ও অভূতপূর্ব উন্নয়নের ইতিহাস লিখে শেষ করা যাবে না। তাই চুপ রইলাম।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি ১৯৯৪ সালে তিনি স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনের গভর্নর নির্বাচিত হন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ ও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, আইএফএডিতে বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি একনেকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও দেশ বিদেশে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০০৫ সালে স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্বরূপ একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও সেনেগালের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা “অর্ডার নেশন্যাল” পদক লাভ করেন।

বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, মহান কীর্তিমান এম. সাইফুর রহমানের অসামান্য অবদান দল, দেশ ও জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় চিরদিন স্মরণ করিবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এম. সাইফুর রহমানের কৃতিত্ব সর্বজন নন্দিত ও প্রশংসিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একজন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও কীর্তিমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। তার দক্ষ রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সুনাম অর্জন করেছে।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম পথিকৃৎ। একজন স্বাধীনচেতা, স্পষ্টভাষী, অটুট মনোবল এবং অহিংস ও অহংমুক্ত ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশকেই শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেননি বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ ও লালন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে এম. সাইফুর রহমানের অবদান দেশবাসী ও দল চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এই মহান পুরুষ ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আজকের এইদিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় এক রহস্যজনক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটসহ গোটা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের বরপুত্র, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতি ও অর্থনীতিবিদ, সিলেট বিভাগের প্রাণ অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
আজ ১২’তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
আল্লাহ তাহাকে জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম আসনে অধিষ্ঠিত করুন। আমীন।
—————————–
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।
ভোটার- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রেম, দ্রোহ, মানবতা ও সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ৪৫’তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাণ পুরুষ, প্রেম দ্রোহ মানবতা ও সাম্যের অগ্রপথিক, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ক্ষূরধার লেখনী ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সকল রকম অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার আর জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন প্রতিবাদের সূচনা করেছেন। তাঁর অনন্য সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রতিভাধর স্বাক্ষর রাখেননি, মানবতার আলো ছড়াননি। তিনি জালিমের জুলুমের বিরুদ্ধে মজলুমকে বিদ্রোহ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন। তাঁর রচিত কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির ভাণ্ডারকে প্রানবন্ত ও সমৃদ্ধ করেছে। শোষণের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম তাঁকে ’বিদ্রোহী কবি’ মর্যাদায় ভূষিত করেছে।
মানব প্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসে তাদের কল্যাণে আত্মনিবেদিত হতে তাঁর সৃষ্টিশীল রচনাশৈলী আমাদের সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ ও বেগবান করেছে। যতদিন রবে এই ভাষা ও সাহিত্য সংস্কৃতি ততোদিন তাঁর সৃষ্টি ও সাহিত্যকর্ম আমাদেরকে স্বদেশ প্রেমে অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যার গান ও কবিতা যুগে যুগে বাঙালির জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করেছে। দাসত্ব ও গোলামীর শৃঙ্খলে আবদ্ধ জাতিকে শোষণ ও উৎপীড়ন থেকে মুক্ত হবার ডাক দিয়ে তিনি লিখেছিলেন,
“বল বীর, বল উন্নত মম শির, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না -বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত”।
শুধু তাই নয় কবি নজরুল ইসলাম সব ধর্মবর্ণ ও গোত্রের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর একটি কবিতার বিখ্যাত একটি লাইন ছিল, ”মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান”। তিনি ছিলেন সব ধর্মীয় চেতনার উর্ধ্বে। তার একটি কথাতেই এটা ছিল পরিষ্কার, “জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত জালিয়াত খেলছো জুয়া”। এ থেকেই অনুমেয় যে তিনি একজন অসামান্য প্রতিভা, অহিংস, উদার ও মহৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিদ্রোহী ও জাগরণের এই কবি বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে বর্ণনা করেছিলেন “ছন্দ স্বরসতীর বরপুত্র” হিসাবে। নজরুলের প্রতিভার যে অনন্য দিকটা ছিল সেটা হলো তার বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সমাজ ধর্ম রাজনীতি সব কিছুর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ ও বিদ্রোহে তিনি সোচ্চার হয়েছেন তার সাহিত্যকর্ম ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। তার কালজয়ী বিদ্রোহী কবিতাই তাকে অমর করে রেখেছে। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যর্থ অনুকরণ ও অনুসরণের কৃত্রিমতা থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও কবিতাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে প্রতিভাবান ও ফলপ্রসূ। তাই তিনিই রবীন্দ্রোত্তর সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ বলে মনে করি।

প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতা, গান ও উপন্যাসসহ অন্যান্য লেখনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্য ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। সে কারণে ইংরেজ সরকার তার গ্রন্থ ও রচনা বাজেয়াপ্ত করে তাকে কারাদণ্ড দিয়েছিল। কারাগারেও তিনি অনশন করে বিদেশী সরকারের জেল জুলুমের, অন্যায় অবিচার ও ব্যভিচারের প্রতিবাদ করেছিলেন। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্য বহুবার কারাবন্দী হয়েছিলেন বিদ্রোহী এই অগ্নী পুরুষ। বন্দী অবস্থায় তিনি লিখেছিলেন, “রাজবন্দীর জবানবন্দী”। তার এইসব সাহিত্যকর্মে আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদের প্রকট বিরোধিতায় তাদের মসনদ কেঁপে উঠে ছিল। তিনি নির্ভীক চেতনায় বীরত্বের অগ্নী শিখা। তিনি সততা ও সত্যাদর্শের মূর্তিমান উজ্জল দৃষ্টান্ত বলেই লিখেছেন, ” অসত্যের কাছে কভু নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর”।

শ্রদ্ধেয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। একাধারে তিনি কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, অভিনেতা, রাজনৈতিক সংগঠক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগরাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতিকে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহী কবিতা, জ্বালাময়ী রণ সংগীত ও গান ছিল প্রেরণার উৎস। এই কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মই বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনী জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে এবং কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। তারই প্রেরণা ও জাগরণ জাতিকে চিরকালই মুক্তি ও স্বাধীনতার পথ দেখাবে।

বাঙালী জাতির মুক্তি ও আলোর পথ প্রদর্শক মহান কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯’শে আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি তার কৃতকর্মের মধ্যেই চির অমর হয়ে থাকবেন। তাহার মহান কৃতকর্মের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

বহুগুণের অধিকারী প্রতিভাধর আলোকবর্তিকা এই কীর্তিমানকে আল্লাহ জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম আসনে অধিষ্ঠিত করুন।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়-
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।

কল্প তরুর গল্প-বাংলা ছোট গল্প

মুর্শিদি গান- মুর্শিদ আমার মূল ভরসা- বাউল গান

মুর্শিদি গান- মুর্শিদ আমার মূল ভরসা- বাউল গান

মুর্শিদি গানঃ

শাহীন শাহ

মুর্শিদ আমার মূল ভরসা

মুর্শিদ আমার মূল কান্ডারী।

তোমা বিনা নাই ভরসা

কেমনে দেই যে ভবপারী।

মুর্শিদ ধর মুর্শিদ ভজ

আপন সত্ত্বার তালাশ কর

মুর্শিদ নজর কাড়তে পারলে

পলকে হয় ভব পাড়ি।

মুর্শিদ আমার মূল ভরসা

মুর্শিদ আমার মূল কান্ডারী।

মুর্শিদি গান-

মুর্শিদ আমার জাতে খোদা

পান কর মুর্শিদও সুধা

রাসুল দেখবি খোদা দেখবি

মুশিদের রুপ ধরি।

মুর্শিদ আমার মূল ভরসা

মুর্শিদ আমার মূল কান্ডারী।

শাহীনশাহ মুর্শিদ পানে

চাইয়া থাকে রাত দিনে

মুর্শিদ বর্জক ধইরা রাখলে

একদিন হবে ভব পারি।

মুর্শিদ আমার মূল ভরসা

মুর্শিদ আমার মূল কান্ডারী।