Select Page
ইমাম গাজ্জালীর দর্শন এবং সুফিবাদ

ইমাম গাজ্জালীর দর্শন এবং সুফিবাদ

ইমাম গাজ্জালীর দর্শন এবং সুফিবাদ

যখন সুফিসাধনায় মনোনিবেশ করলাম তখন দেখতে পেলাম যে একমাত্র সুফিগনই হক পথে প্রতিষ্ঠিত আছে ।দীর্ঘদশ বছর কৃছ্র সাধনার মাধ্যনে আমি সন্দেহাতীতভাবে এ সত্যটি উপলব্ধি করেছি যে , সুফি মন্ডলীই আল্লাহর একনিষ্ট সাধক,আল্লাহর পথের যথার্থ পথিক,তাদের তরিকাই হলো সবচেয়ে নিখুত তরিকা।তাদের নৈতিক চরিত্র মানবকুল শ্রেষ্ঠ জীবনধারা,অতি সচ্ছ এবং তারা নিখুত ও উন্নত নৈতিকতার অধিকারী ,তাদের নৈতিকতা ও চরিত্র এতই বলিষ্ঠ ও উচ্চমানের যে,সমস্ত দর্শন বিজ্ঞান ও শরীয়তবেত্তাদের যাবতীয় জ্ঞান গরিমার সমন্বয় করেও এর মোকাবেলা করা যাবে না।অনুরূপ বলিষ্ঠ চরিত্র কাঠামো রচনা করা সম্ভবপর হবে না। কারন আধ্যাত্নিক এবং জাগতিক নির্বিশেষে তাদের প্রত্যেকটি কাজ নুরে নবুয়তের দ্বারা স্নাত।এ নুরে নবুয়তকে বাদ দিলে আর কি আছে যা দ্বারা প্রকৃত সত্যের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

ফানাফিল্লাহ আধ্যাত্নিক উৎকর্ষতার সর্ব্বোচ্চ স্তর এতে সন্দেহ নেই।তবে তা কৃচ্ছ্রতা সাধনার পরিনতির দিক থেকে  অন্যথায় এটাই আধ্যাত্নিকতার প্রথম সোপান,এর পুর্বে যা কিছু করা হয়,সবই এর প্রস্তুতি পর্বে গন্য। ফানাফিল্লাহ থেকে দিব্যজ্ঞান ও দিব্য দৃষ্টির উন্মেষ ঘটে।

সুফিবাদ

সুফিগন এ সোপানে অনুপ্রবেশ করেই ধ্যানের (মোরাকাবা) মাধ্যমে ফেরেশতা ও নবীদের আত্নার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন,তাদের কথা শোনেন এবং তাদের সাহায্যে প্রকৃত জ্ঞান আধ্যাত্নিকতার সন্ধান পান। শুধু তাই নয়, তাদের নৈতিক উন্নতি সাধিত হয় এবং সৃষ্টি ও বস্তুজগতের উর্ধ্বে তারা এমন একটি জগতের সন্ধান পান ,যার অবস্তা ও প্রভাব ভাষায় বর্ননা করা যায় না।তা বর্ননার চেষ্টা করলে ত্রুটি বিচ্যুতি না হয়ে উপায় নেই।তাছাড়া সান্নিধ্য ও মিলনের বর্ননা ভঙ্গি বিশেষজ্ঞগনের একান্ত নিজস্ব।
কেউ বলেন , এর অর্থ, আত্মার সাথে পরমাত্মায় মিলন। আর কারাে মতে এ হলাে, আত্মার পরমাত্মায় উপনীত হওয়া। প্রকৃতপক্ষে এ মতবাদগুলাে গবেষণা করেছি। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কথা এই যে, যারা এসব গূঢ় রহস্যের সাথে পরিচিত হয়েছেন, তাদের এই অধিক কিছুই বলা উচিত নয় যে, যা হওয়ার তা-ই হয়েছে, বর্ণনা করার নয়। এতটুকুই জেনে রাখা ভাল যে, ভালই হয়েছে, এর বেশি অনুসন্ধান করে কোন উপকার হবে না।

মোটকথা, যে ব্যক্তি তাসাউফের (সুফিবাদের)আলো পায়নি, সে নবুয়তের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সম্পুর্ন অক্ষম।মুর্খরাই সুফিবাদের বিবৃত তত্ত্ব ও তথ্যকে অস্বীকার করে এবং তা নিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসে।

কল্প তরুর গল্প-বাংলা ছোট গল্প

কল্প তরুর গল্প-বাংলা ছোট গল্প

দুনিয়া হলো কল্পতরুর গল্পের মত। একটা লোক হাটতে হাটতে ক্লান্ত ক্ষুদার্ত হয়ে একটি গাছতলায় গিয়ে বসলো। কিন্তু সে জানতনা সেই গাছটি ছিলো কল্প তরুর গাছ। সেখানে কিছুক্ষন বিশ্রাম নেয়ার পরে সে ভাবলো এখন যদি ভালো মন্দ খাবার পাওয়া যেত তবে খুব ভালো হতো। সঙ্গে সঙ্গেই তার সামনে কিছু খাবার এসে হাজির হলো। লোকাটা ক্ষুদার তারনায় অতসত বিছার না করে খাবারগুলো খেয়ে নিলো। খাওয়া দাওয়ার পরে তার একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছিল। সে আবার মনে মনে ভাবলো এখন যদি এখানে একটি বিছানা পাওয়া যেত তাহলে খুব ভালো হত। সঙ্গে সঙ্গেই বিছানা এসে হাজির হলো। লোকটি অতসত বিছার না করে বিছানায় শুয়ে পরলো। বিছানায় শুয়ে লোকটি মনে মনে ভাবলো এখন যদি কেউ আমার পা দুটি টিপে দিতো তাহলে খুব ভালো হত। সঙ্গে সঙ্গেই কেউ এসে তার পাদুটি টিপে দিতে লাগলো। তখন লোকটা চমকে উঠে ভাবলো এটা কি ঘটতে চলেছে? কোন ভুত নাত? আবার ভুত এসে গলা টিপে মেরে ফেলবে নাতো? সঙ্গে সঙ্গেই একটা ভুত এসে হাজির হয়ে লোকটাকে গলা ঠিপে মেরে ফেললো।

গল্পটা থেকে আমাদের শিক্ষা হলো- আমারা যেরকম ভাবছি সেরকম লাভ করছি। জগতটাকে যে রকর ভাবছি সেরকমই জগতটা আমাদের কাছে ধরা দিচ্ছে। আমরা যদি সৎ চিন্তা করি পরকালে সৎ চিন্তাগুলিই আমাদের সামনে আসবে। আর যদি অসৎ চিন্তা করি অসৎ চিন্তাই আমাদের সামনে আসবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) বলেছেন, কেবলমাত্র দুটি জিনিসই আমাদের সঙ্গে যা্বে। একটি হলো সৎ ভাবনা আর অন্যটি হলো অসৎ ভাবনা।

জ্ঞানার্জন

জ্ঞানার্জনঃ শিক্ষা বা জ্ঞানার্জনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। শেষ আছে ভেবে আমরা মাথামোটা কেউ কেউ নিজেকে জ্ঞানী ভাবতেই পারি, যা বোকার রাজ্যে বসতী করে বদ্ধগারদে আবদ্ধ হয়ে নিজের অজ্ঞতা ও অহমিকার চর্চা মাত্র।
বদ্ধদ্বারে আবদ্ধ এই জীবগুলী হয় পশু, না হয় দেবতা। যেহেতু সমাজ সভ্যতা আমাদের মূল্যায়ন করছে না, অর্চনা বা পূজা করছে না, তাহলে এটা নিশ্চিত আমরা দেবতা নই। হয়তো মানুষরূপে পশুত্বে আবৃত বা আবদ্ধ হচ্ছি। নতুবা অভিশপ্ত ও অশুভ শক্তি প্রেতাত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষরূপে তারই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।

কথায় বলে, ফকিরের পায়ে লক্ষ্মী, পুরাতন প্রবাদ বলে, যেখানে দেখিবে ছাই উড়িয়ে দেখিবে তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।
যদিও সকল ছাইয়ের স্তূপে অমূল্য রতন পাওয়া যায়নি। তবুও থেমে থাকেনি জ্ঞান পিপাসু সাধক ফকিরের পদচারণা, নৈরাশ্য হয়নি অন্বেষনে ব্রত তপস্যারত কাঙ্গালীরা, বিফল হয়নি সৃষ্টিশীলতা, মেধা ও মননের শতস্ফূর্ত বিকশিকতা।
তবুও তারা অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেই ছুটে চলেন সংগ্রহের অন্বেষায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাস্তবতায়, উঁচু তলা থেকে নিচু তলায়। সর্বত্র।

প্রকৃতার্থে, জ্ঞানার্জনে বা সংগ্রহে যারা ব্রত, তাদের কাছে সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা ও উঁচুনিচু ভেদাভেদ বা মানসিকতা থাকবে না। তারা ত্যাগী বিনয়ী, ধৈর্য্যশীল ও কষ্টসহিষ্ণু জ্ঞান পিপাসু। নতুনত্ব, সৃষ্টি, সংগ্রহ ও অর্জনই তাদের প্রতিপাদ্য বিষয়।
ভাল কোন বিষয় বা পরিবেশ থেকে যতটা বাস্তবিক জ্ঞানার্জন সম্ভব, তারচেয়ে বেশী বাস্তবিক জ্ঞানার্জন সম্ভব মন্দ কোন বিষয় কিংবা নোংরা কোন পরিবেশ থেকে, যা অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য ও অর্জন বা ধারনাপ্রসূত।
সাত তলায় বসত করে নিচ তলার পরিবেশ বুঝে উঠা কষ্টসাধ্য বিষয়। তাই অর্জনের স্বার্থে অন্তত সমভাবে বসতী স্থাপন, যাতায়াত ও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। যা মূলতঃ অন্বেষণ বা অর্জনের প্রচেষ্টা মাত্র।
ক্ষুদ্র মৌমাছি অক্লান্ত পরিশ্রম করে মধু সংগ্রহ করে, যা আমরা সুমিষ্টি স্বাদ গ্রহন করি। বিভিন্ন ফুল ফলের পাশাপাশি, সে বিভিন্ন নোংরা নর্দমা, পচাঁবাসী ও আবর্জনা থেকেও রস বা মধু সংগ্রহ করে থাকে। আমরা তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার মূল্যবান ধন খাঁটি মধু চড়াদামে সংগ্রহ করি, তৃপ্তি ও স্বাদ উপভোগ বা গ্রহন করি।
শিক্ষা, জ্ঞানার্জন বা অন্বেষণের বিষয়টিও মৌমাছির অক্লান্ত পরিশ্রমের ধন বিন্দু বিন্দু মধু সংগ্রহের মতোই ত্যাগী ও সৃষ্টিশীল মানসিকতা। শুধু ফুল ফল থেকে যেমন মধু সংগ্রহ যথেষ্ট নয়, তেমনি সংকীর্ণ বা সীমাবদ্ধ কোন সমাজ বা পরিবেশ থেকে জ্ঞানার্জন বা সংগ্রহ পর্যাপ্ত নয়। সমাজের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিন্ম শ্রেণীর সর্বত্রই আহরণ ও সংগ্রহের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। শুধু নির্ধারিত একটি শ্রেণী বা সমাজ থেকে আংশিক, সীমিত বা সীমাবদ্ধ অর্জন বা সংগ্রহ সম্ভব। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন সমাজ, পরিবেশ ও জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধতা পেড়িয়ে সীমাহীন ও পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন, আহরণ ও সংগ্রহ সম্ভব। যা বিশ্বব্যাপী।
তাই বোকার রাজ্যের বসতী ত্যাগ করে, আমাদের হিংসা ও অহমিকা পরিহার করে, বেড়িয়ে পড়তে হবে জ্ঞানার্জনে, সংগ্রহ ও অন্বেষণে।
সৃষ্টিশীলতা ও মেধার সমন্বয়ে দূরীভূত হবে আমাদের পশুত্ব, অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা।
আমরা হবো নন্দিত, প্রশংসিত ও উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী উন্নত জাতি। বিকশিত হবে মানবতাবোধ, জনকল্যাণ ও শান্তি।
জাগ্রত হবে বিবেক, বিবেচনাবোধ ও মনুষ্যত্ব।
———–
ধন্যবাদান্তে-
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।
তাং ১৩/১০/২০১৭ ইং।

মায়াময় জগত কবিতা

মায়াময় জগত কবিতা

এস.সি রিয়াজ

মায়াময় জগতে আপন কি, তা জানা হলো না।
একি রূপবতীর গর্ভে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর কান্নার আর্তনাদ, তাও বুঝা গেলো না।
অবহেলা সংশয়ে কেটে গেলো যৌবনের শেষ প্রহরগুলী।
তবুও বেছে আছি অজ্ঞ অবুঝ ভেবে, প্রেরণাহীন তোমাদের মাঝে।
আর কত দিন, কত পথ?
ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য ধৈর্য্যের কতদূর?
কবে জানি নিঃশেষ হবে, এই বিড়ম্বিত ক্লান্ত রথ।

আমি তোমাদেরই মাঝে ছিলাম, মতাদর্শে অমিল এক নগণ্য বেকুব।
কখনো বুঝিনি এমন দূরত্ব; সৃষ্টি, মানবতা ও মনুষ্যত্ব।
আঘাত হেনেছি কভু সৃষ্টিসুখের আশায়, আলো ছড়ানোর নেশায়।
ঘুমন্ত মানবতায়, মনুষ্যহীনতায়!
প্রজ্জ্বলিত আলোক বর্তিকায় নতুন প্রজন্মের জয়োগানে

মেধা ও মননের বিকাশে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন ও উন্নত, সততা মনুষ্যত্ব ও মানবতার

নবদিগন্ত বিনির্মানের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশায়।
ক্ষতবিক্ষত হয়েছো তীরন্দাজের আঘাতে, তবুও ক্ষমা কর আমায়।

আমি পারিনি মিশে যেতে বিসর্জনে, তোমাদের সাথে কালো গঙ্গায়।
আদর্শচ্যুতি নাড়া দেয় বুকে, আমাকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখায়।
ভীত আমি পথভ্রষ্ট, বিপথগামী আত্মঘাতী হতে পারিনি, হৃদয়ে তবুও রক্তক্ষরণ।
আমি পারিনি মায়াবন্ধনে আবদ্ধ হতে, তোমাদের মোহময়ী সংস্কৃতি আর প্রলুব্ধ ভালবাসায়।

হারিয়ে যাই সবই, শূন্য হস্তে আপন ঠিকানায়।
কার্পণ্যহীনতায় তবুও বলে যাই,
আমি তোমাদেরই মতাদর্শে অমিল, সর্বহারা এক নিঃস্ব যুবক।
তবুও ক্ষমা কর আমায় বিদায় অবেলায় শেষ দেখায়।
————————-
তাং-০৭/১০/১৭ইং।
– এস.সি রিয়াজ।
হবিগঞ্জ।

গণতন্ত্র দিবস

গণতন্ত্র দিবস

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি গনতন্ত্র ও দেশপ্রেমী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর থেকেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ দিবসটিতে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব রাষ্ট্রগুলিকে তাদের নিজ নিজ জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের গুরুত্ব তাৎপর্য, মূলনীতি আদর্শ ও উপাদান, গনতান্ত্রিক সরকারের চর্চা ও আচরণ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং গনতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরী, মূল্যবোধ কার্যকরকরণ ও সম্প্রসারণের আহবান জানানো হয়।

গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারী প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার রয়েছে।
মূলতঃ জনগণের মতামতই হয় সরকার পরিচালনার ভিত্তি। কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়ে উঠে। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরীর ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়। প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ বা রাষ্ট্রে ব্যক্তি বা নাগরিকের অধিকার মর্যাদা সমুন্নত থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কখনো মানুষকে দাসে পরিণত করা যায় না। একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বা সমাজেই কেবলমাত্র মানুষের ন্যায্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত যায়।

কিন্তু সারাবিশ্বে বহু গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নামে সাধারণ জনগণের ইচ্ছা, আগ্রহ ও স্বাধীনতাকে ভূলুন্ঠিত করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে চলেছে। এই দুঃশাসনের কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হচ্ছে আমাদের আজকের বাংলাদেশ ও তার জনগণ। বর্তমান রাজনীতিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধর পরিস্থিতি ও সংকুচিত করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার, বাক ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বহুবিধ কালো আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করা হয়েছে। দেশে একনায়কতান্ত্রিক দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা ও পাকাপোক্ত করণের লক্ষ্যে ভিন্ন দল মতের মানুষকে মামলা হামলা, জুলুম অত্যাচার, গুম খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে।

যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস সেখানে জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পছন্দের জনপ্রতিনিধি বা সরকার গঠনের পদ্ধতি বাতিল করে গনতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থার পথকে রুদ্ধ বা ধ্বংস করা হয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের নামে দেশের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রহসন, প্রতারণা ও তামাশা করা হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনের পূর্বে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে বিনা ভোটের একটি অবৈধ অগণতান্ত্রিক ভোট ডাকাত সরকার গঠন করা হয়েছে। অনৈতিক বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করতে ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইন আদালত ও বিচারব্যবস্থা তাদের আজ্ঞাবহ তাবেদার বা ফরমায়েসী গোলাম হয়ে কার্যসম্পাদন করছে, রায় বা বিচারকার্য পরিচালনা করছে। তাদের কোন স্বতন্ত্রবোধ, স্বাধীনতা বা ব্যক্তিত্ববোধ বলে কিছু নেই বললেই চলে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক আদালতে তার জামিন পাওয়ার গনতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে কিন্তু সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিভিন্ন সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীসহ রাষ্ট্রের নাগরিক বৃন্দ। এভাবে প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট বা প্রতিষ্ঠানই পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ বেশ্যাবৃত্তিতে নির্লিপ্ত হয়ে নির্বোধ নির্লজ্জ ও চরিত্রহীন দাসত্বের জীবনযাপন করছে।

প্রশাসন ও আমলা কামলা নির্ভর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এমন বিপর্যস্ত ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণের জন্য আজকের গনতন্ত্র দিবসে গনতন্ত্রের গুরুত্ব তাৎপর্য, মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও নীতি আদর্শ, সচেতনতাবোধ ও একটি গনতান্ত্রিক সরকারের আচরণ ও জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সারাদেশের জনগণকে সচেতন করে তোলা খুবই জরুরী। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য যেকোন একটি সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় এই একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ বা ভোট ডাকাত সরকারের অধীনে কখনও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে না, অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
আজ জনগণের মৌলিক বা গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গনআন্দোলনের বিকল্প নেই। যুগেযুগে রক্ত ও জীবনোৎসর্গের মধ্যদিয়েই জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাই আসুন ভুলুন্ঠিত গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গনআন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন গনতন্ত্র দিবসে এই হউক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

ধন্যবাদান্তে-
শারফিন চৌধুরী রিয়াজ।