Select Page

আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ।

বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর নাম ও উপাধি-ঃ ইতিহাস পাঠে জানা যায়, রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা আউলিয়া কুলের শিরােমণি হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ-এর কুনিয়াত আবু মােহাম্মদ। তার উপাধি মুহিউদ্দীন। ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় পবিত্র ইরাকের অন্তর্গত ঝিলান নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে জিলানী বলা হত। সত্যি কথা বলতে হয়, তিনি সারা বিশ্বের সর্বসাধারণের নিকট এই আবু মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী নামে পরিচিত হলেও ধরাধামের বিভিন্ন অঞ্চলে তাকে বিভিন্ন গুণবাচক লকবে ভূষিত করা হয়ে থাকে। আমাদের এতদঞ্চলে সাধারণতঃ তিনি কুতবুল আফতাব, গাওসুল আযম এবং বড় পীর নামেই প্রসিদ্ধ।

ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে এ কথাও জানা যায় গাওসুল আযম বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ-কে কোন কোন মহলের জনসাধারণ তাকে কুতুবে রাব্বানী নামেও অভিহিত করে থাকে। কোন কোন স্থানের লােকেরা তাকে পীরানে পীর দস্তেগীর আফযালুল আউলিয়া উপাধিতে ভূষিত করে থাকে। ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে একথাও জানা যায়, কোন কোন স্থানে তিনি নূরে ইয়াযদানী নামেও পরিচিত। এমনি ভাবে তার আরও বহু গুণবাচক উপাধি রয়েছে। মুমীর লাখ নবী কর্তৃক রচিত সাওয়ানেহে ওমরী হযরত গাওসুল আযম নামক কিতাবে বহু কিতাবের হাওলা দিয়ে লিখিত হয়েছে। যে একদা সত্যের সৈনিক আউলিয়া কুলের শিরমণি রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক বাগদান শহরের বাইরে গমন করলেন। যাবার পথে পথিমধ্যে জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, কৃশতা ও দুর্বলতাবশতঃ সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পথের পাশে পড়ে আছে। পরিতাপের বিষয় হল জনৈক ব্যক্তি উঠবার জন্য পুনঃপুন আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তু দুর্বলতার কারণে পড়ে যাচ্ছে।

বিশ্ব নিয়ন্ত্ৰা আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের অসীম রহমতে সে ব্যক্তি আকস্মাৎ মাহবুবে সােবহানী সাধক কুলে শিরমণি বড়পীর হযরত গাওসুল আযমের নুরানী চেহারা মােবারকের প্রতি দৃষ্টিপাত করে কাকুতি মিনতি সহকারে আরয করল, “হে ব্যথিতজনের পৃষ্ঠপােষক আল্লাহর ওয়াস্তে আমার দিকে দৃষ্টিপাত করুন এবং আপনার ঈর্ষা তুল্য ফু দ্বারা আমার মৃতপ্রায় দেহে নবজীবন দান করুন। যাই হােক তার কাকুতি মিনতী শুনে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে পড়লেন এবং তার হস্ত ধারণপূর্বক-ইল্লাল্লাহ বলে তাকে জমিন হতে উঠায়ে দিলেন।

সত্যি কথা বলতে হয় মহান করুণার আধার আল্লাহ জাল্লাহ শাননুহর অসীম রহমতে হযরত গাসুল আযম বড়পীর আব্দুর কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ সাহেবের পবিত্র হস্তের পরশ লাগামাত্র সেই মরণােন্মুখ বৃদ্ধ সবুজ খােরমা বৃক্ষের ন্যায় সতেজ ও সবল হয়ে উঠে দাঁড়াইল এবং বলতে লাগল“হে মুহিউদ্দিন, আল্লাহর অসীম রহমতে আপনি আমাকে স্থায়ী জীবন দান করলেন। আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি আম্বিয়াকুল শিরমণি হযরত মুহাম্মদ (সঃ)এর ইসলাম ধর্ম। দুর্বলতাবশতঃ আমার এই মৃতপ্রায় অবস্থা হয়ে গিয়াছিল। বিশ্ব নিয়ন্ত্রা আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের লাখ লাখ শোেকর তিনি আপনাকে সৃষ্টি করে আমাকে নবজীবন দান করেছেন। মহান করুণার আঁধার আল্লাহ জাল্লাহ শানুহুর তরফ হতে তাই আপনার উপাধি হল মুহিউদ্দিন, ধর্মকে সজীবকারী ।

যাই হােক তথা হতে বড়পীর গাওসুল আযম আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ বাগদাদে এসে মসজিদে প্রবেশ করলে তাকে দেখা মাত্রই একব্যক্তি হঠাৎ বলে উঠল-আসসালামু আলাইকুম ইয়া মুহিউদ্দিন। এরপর হতেই কেহ তাকে দেখলে মুহিউদ্দিন উপাধিতে সম্বােধন করতেন। ইতিহাস পাঠে এ কথাও জানা যায়-বড়পীর সাহেব মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে উঠলে সারা মসজিদে মহিউদ্দিন নামে উপাধি উচ্চারণে ধুম পড়ে গেল। সত্যি, আস্তে আস্তে তিনি সকলের নিকট মুহিউদ্দিন পথিত্বে পরিচিতি হয়ে গেলেন। ইতিহাসবেত্তা ও ইসলামী জ্ঞান তাপসগণ বলেন ইতিপূর্বে তার বহুল প্রচলিত উপাধি কেহই জানত না।

বংশ পরিচয় ও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দেখতে পাই-মাহবুবে সােবহানী রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ পিতা ও মাতার উভয় দিক হতে সাইয়্যেদ খানদানের সহিত সম্পর্কিত ছিলেন। ইতিহাস বেত্তারা বলেন, পড়পীর সাহেবের পিতার নাম হযরত সাইয়েদ আবু ছালেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত। প্রিয় পাঠক পাঠিকার সুপ্ত হৃদয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে নামের শেষে কেন “জঙ্গী-দোস্ত” লাকবে ভূষিত করার কারণ ছিল, তিনি খুব আল্লাহ ওয়ালা, পরহেজগার লােক ছিলেন। ইসলামী জ্ঞানবীদগণ বলেন, তিনি ধর্মীয় জিহাদে অংশগ্রহণ করা খুবই পছন্দ করতেন। তাঁর মাতার নাম ছিল ফাতেমা। তার কুনিয়াত ছিল উম্মুল খায়ের। তিনি বিশ্বনিয়ন্তা আল্লাহ রাম্বুল আলামীনের খাছবান্দা ছিলেন।

ইতিহাস পর্যালােচনা করলে আমরা এ কথা দেখতে পাই তিনি একজন সুফী সাধক শ্রেষ্ঠ বুযুর্গ লােক-আবদুল্লাহ ছাওমাঙ্গের অতি আদরের কন্যা ছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আওলিয়া জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তরীকত, হাকীকত, এবং শরীয়তে মােহাম্মদীয়া দিশারী হযরত বড়পীর সাহেব-এর পিতার উর্ধ্বতন বংশপরম্পরা সাইয়্যেদ কুলের শিরমণি হযরত ইমাম হাসান রাযিয়াল্লাহু আনহুর সহিত। এবং মাতার উর্ধতন বংশপরম্পরা সাইয়্যেদ কুলের গৌরব হযরত ইমাম হুসাইন ছিলেন, এই কারণে তাকে আলহাসানী ওয়াল’ হুসাইনী বলা হত। |

পিতৃবংশঃ রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা সুফী সাধক হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ ইবনে’ সাইেয়্যেদ আবু ছালে মুসা জঙ্গী-দোস্ত রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আবু আবদুল্লাহ আলজিবিল্লী রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ ইয়াহইয়া যাহেদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ মােহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ দাউদ রহমাতুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ সানী রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ মুসালজুন রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ দাউদ রহমাতুল্লাহ আবদুল্লাহ আর মাহাস রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ হাসানুল মুসান্না রহমাতুল্লাহ ইবনে আমীরুল মু’মেনীন হযরত আলী ইবনে আবু তালে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু অর্থাৎ বেলায়েত জগতের সম্রাটের একাদশ ঔরসে সত্যের সেনানী সূফী সাধক হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহ আবির্ভূত হন।

মাতবংশ? গাওসুল আযম হযরত বড়পীর সাহেবের রহমাতুল্লাহ মাতা হযরত সাইয়্যেদা উম্মুল খায়ের আমাতুল জাবদর ফাতেমা বিনতে হযরত সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ ছামাদ যাহেদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আবু জামাল রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ মােহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ মাহমুদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আবুল আতা আবদুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন ঈসা রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আবু আলাউদ্দীন মােহম্মাদুল জাউয়াদ রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ আলীউররেযা রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ মুসা আল কাসেম রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদুনা ইমাম জাফর সাদেক রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদুনা ইমাম যাকের রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদেনা যাইনুল আবেদীন রহমাতুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদুনা আমিরুল মু’মেনীন হযরত হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু ইবনে সাইয়্যেদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুর অষ্টাদশ ঔরসে জন্যগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিকগণ বলেন, উপরােক্ত উভয় নসবনামার প্ররিপ্রেক্ষিতে তিনি হাসানী এবং হুসাইনী সাইয়্যেদ। |

জন্ম ইতিহাস পাঠে জানা যায়, হযরত গাওসুল আযম মহীউদ্দীন আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ চারশত সত্তর মতন্তরে চারশত একাত্তর হিজরী সনের পবিত্র রমজান মাসের পহেলা কিংবা ২১শে প্রসিদ্ধ জিলান শহরে সুবিখ্যাত সাইয়্যেদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় প্রসিদ্ধ জিলান শহরটি পারস্য রাজ্যের অধীন পবিত্র ইরাক প্রদেশের অন্তর্গত একটি ক্ষুদ্র শহর যারা ইতিহাসের পাতায় সীলান নামেও পরিচিত। প্রিয় পাঠক পাঠিকার সুপ্ত হৃদয়ে প্রশ্ন হতে পারে যে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সাহেবের রহমাতুল্লাহ নামের শেষে কেন জিলানী সংযােগ করা হল জবাবে বলা যেতেপারে যে জিলানের সহিত সম্বন্ধযুক্ত বলে তাকে জিলানী অর্থাৎ জিলান দেশীয় বলা হয়। ইতিহাস বেত্তারা বলেন প্রসিদ্ধ জিলান শহরটি বাগদাদ হতে ওয়াসেতের পথে একদিনের পথ। কোন কোন ইতিহাস বেত্তারা বলেন ৪০০ মাইল দূরে অবস্থিত। | নামকরণ ইসলামী জআনবীদদের দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায়, আওলীয়াকুলের শিরমণি সুফী সাধক হযরত গাওসাল আযম আব্দুল কাদের জিলানী সাহেবের রহমাতুল্লাহ শুভ জন্মের কিছু সময় পরই নিখিল বিশ্বের ত্রাণকর্তা সুপারিশের কাণ্ডারী নবীয়ে সােজাহান হযরত মােহাম্মদ রহমাতুল্লাহ স্বীয় প্রধান সাহাবায়ে কেরামকে সাথে লয়ে সূফী সাধক সাইয়্যেদ আবু সালেহ মূসার বাসগৃহে তাশরীফ আনলেন এবং সাইয়্যেদ আবু সালেহকে লক্ষ্য করে অদৃশ্য জগত হতে বললেন, হে আবু সালেহ। এ পার্থিব জগতে তুমিই অধিক ভাগ্যবান। যেহেতু তােমার গৃহে, আওলীয়াকুলের শিরমণি রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা আল্লাহর ওলী আজ জন্মগ্রহণ করেছেন। তােমার ভাগ্যবান শিশুটির নাম রাখ মাহবুবে সোবহীন। সে পার্থিব জগতের মানুষের কাছে আব্দুল কাদের নামে অর্থাৎ মহাশক্তিমান আল্লাহতায়ালার বান্দা নামে। আমি খাস করে তােমার শিশুর জন্য দোয়া করিতেছি। তােমার শিশু যেন জগত মাঝে সুনাম সুখ্যাতি ছড়ায়ে অমর কীর্তি স্থাপন পূর্বক চিরস্মরণীয় হয়। এহেন কথা শুনে কার হৃদয়ে আনন্দ না হয়। দ্রুপই সত্যের সৈনিক সূফী সাধক আবু সালেহ, রহমাতুল্লাহ এই বিস্ময়কর অদৃশ্য বাণী শ্রবণ করে অতি মাত্রায় আনন্দিত হলেন এবং তখনই দুই রাকাত শােকরানার নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর মহা করুণার আধার আল্লাহ জাল্লা শানহুর শাহী দরবারে অনেকক্ষণ যাবৎ মােনাজাত করলেন। | ফাযায়েলে গাওসিয়্যাহ নামক কিতাবে ইসলামের বীর সেনানী হযরত আলী রহমাতুল্লাহ হতে একটি রেওয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সাইয়্যেদুর মুরসালিন হযরত মােহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, তার জীবনকালে মাহবুবে সােবহানী আওলীয়াকুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ সম্বন্ধে এরূপ দোয়া করেছিলেনঃ হে পরওয়ারদিগার আপনি আমার সেই নায়েবের প্রতি রহমত বর্ষিত করুন, যে আমার পরে ধরাধামে আনিভূত হবে সেই সাধক কুলের শিরমণি আমার হাদীসমূহ বর্ণনা করে আমার ধন শরীয়তের পথে পরিচালিত করবে।

ছেলে বেলার একটি কাহিনী ও ইতিহাস পাঠে জানা যায়, শাবান মাসের শেষ দিন। সন্ধ্যাবেলা আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ উঠবে চাঁদ দেখার জন্য সবাই ভীড় ইমালেন। চাঁদ দেখে সকলে রােযা রাখবে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল সেদিনের আকাশ ছিল মেঘলা। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে জিলানী অধিবাসীরা কেহই চাঁদ দেখিতে পারল না। যাই হােক পরের দিন রােযা রাখতে হবে কিনা এ নিয়ে জিলানী অধিবাসীরা তার পিতা যিনি হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ সাহেবের বাবা ছিলেন সেকালে মশহুর আলেম, জিলান অধিবাসীরা সমস্যা সমাধানের নিরসন কল্পে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সাহেবের রহমাতুল্লাহ সনামধন্য পিতার কাছে এলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল-এ সময় তিনি বাড়ী ছিলেন না। যাই হােক জিলান অধিবাসীদের সব কথাগুলাে হযরত সাইয়্যেদা ফাতেমা শুনলেন। তাদের কথা শুনে কিছুক্ষণ পরই সাইয়্যেদা ফাতেমা বললেন এটা তাে বাস্তব কথা যে চাদ দেখে রােযা রাখা উচিত। তবে আমার মনে হয় চাঁদ দেখা না গেলেও আজ পহেলা রমযান। জিলান অধিবাসীরা অনেকেই তার কথা মেনে নিলেন না। তারা সাইয়্যেদা ফাতেমাকে প্রশ্ন করলেন আপনি কিভাবে অনুধাবন করলেন যে আজ পয়লা রমযান। তিনি কিছু সময় ভাববার পর বললেন আজ আমার শিশু সন্তান-সেহরীর পর হতে আর দুধ পান করেনি। সত্যি শুনলে আপনাদের অবাক লাগবে, মুখে কিছু দিলেও সে খাচ্ছে না তাই আমার মনে হয় সে রােযা রেখেছে। তার আচরণ থেকে বুঝা যায় আজই প্রথম রােষা-সত্যি সাইয়্যেদা ফাতেমার পবিত্র মুখের কথাগুলাে শুনে সবাই অবাক হয়ে গেলেন বরং কেউ কোন প্রতিবাদ করল। ইতিহাস বেত্তারা বলেন পরদিনই অনেকেই মাহে রমযানের রােযা রাখলেন। | ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ কথাও জানা যায় যে হযরত সাইয়্যেদা ফাতেমার কথাই ঠিক।’ গতকালই ছিল মাহে রমযানের প্রথম দিন। একথা দিবালােকের ন্যায় সমুজ্জ্বল যে কতৰে কৰানী পীরে দাস্তেগীর হযরত শাহ মুহিউদ্দিন সাইয়্যেদ আবু মােহাম্মদ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ ছােটবেলা হতেই একটু ভিন্ন প্রকৃতির ছিলেন। বর্তমান যুগের ছেলেদের মত হৈ হুল্লার মধ্যে দিয়ে তিনি কাটাতেন না। তাকে দেখা যেত চুপচাপ বসে কি যেন ভাৰতেন। ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায় তিনি নিরিবিলি থাকা পছন্দ করতেন। পূর্বেই আলােচিত হয়েছে যে, রুহানী জগতের খাটি প্রদাতা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সাহেবের রহমাতুল্লাহ, মাতা খুবই পরহেজগার ছিলেন। তার মাতা সর্বদা কোরআন শরীফ তেলওয়াত করতেন। এমন দেখা গেছে একটু সময় পেলেই তিনি কারআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন তখন সত্যের সৈনিক আওলীয়াকুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ, পাশে বসে শুনতেন। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ শুনলে অবাক হবেন, হ্যা অবাক হবার কথাও। মায়ের কোরআন তেলাওয়াত শুনেই তিনি পাৰ বছর বয়সের সময়ই মহাগ্রন্থ আল কোরানের আঠারাে পারা মুখস্ত করে ফেলেন। | একথা বাস্তব সত্য কথা যে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ যে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হলেন, আশং মাঝে যে তার নাম। তার নাম সােনালী অক্ষরে লিখা থাকবে-এইসব আলামত তার শিশু জীবন হতেই প্রকাশ পেয়েছিল। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ। একটু চিন্তা করে দেখুন আওলিয়া জগতের উজ্জ্বল নক্ষএ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ যে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবেন তা উক্ত কাহিনীতেই সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছিল।

প্রাথমিক শিক্ষাঃ সত্যের সেনানী আওলিয়াকুলের উজ্জ্বল নক্ষত্র বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ সাহেবকে তার যােগ্য পিতা জিলান নগরীর একটি মক্তবে বিদ্যা শিক্ষা করার জন্য ভর্তি করান। মক্তবে ভর্তি হবার আগেই মাতার মুখে কোরআন তেলাওয়াত শুনে আল কোরানের বিরাট অংশ মুখস্ত করে ফেলেছিলেন। ইসলামী আনৰীদদের দৃষ্টিকোন থেকে একথাও জানা যায় যে, গাওসুল আযম হযরত বড়পীর সাহেবকে রহমাতুল্লাহ প্রথমে শিক্ষার উদ্দেশ্যে মক্তৰ্বের পাঠানাে হলে যাত্রাপথে পথিমধ্যে শেল ফেরেশতা এসে তাকে বেষ্টন করে রইলেন এবং তাকে তারা বেষ্টন করে শিক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে গেলেন। ইতিহাস পাঠে একথাও জানা যায় হযরত বড়পীর সাহেবকে রহমাতুল্লাহ যখন মক্তবে নিয়ে যাওয়া হল তখন মক্তবে ছাত্রদের সংখ্যা অনেক ছিল। সবার কোন গান ছিল না, তখন হঠাৎ তার সঙ্গী ফেরেশতাগণ গায়েব হতে আওয়াজ দিলেন তােমরা বিশ্বনিয়া আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের প্রিয় বান্দার জন্য স্থান প্রশস্ত করে দাও। সত্যি এহেন অদৃশ্য বাণী শুনে শিক্ষক-ছাত্রবৃন্দ চমকিয়ে উঠলেন। যাই হােক সাথে সাথে শিক্ষক ছাত্রগণ আগন্তুকের জন্য জায়গা করে দিতে নির্দেশ প্রদান করলেন। যাইহােক ছাত্রগণ তৎক্ষণাৎ পাশ্বেরর দিকে চেপে বসে মাহবুবে সােবহানী রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সাহেবের রহমাতুল্লাহ জন্য জায়গা করে [দিলেন। ইতিহাসে বেত্তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে একথাও জানা যায় মক্তবে ভর্তি করার পর ওস্তাদজী আওলীয়াকুলের শিরমণি সূফী সাধক হযরত বড়পীর সাহেবকে রহমাতুল্লাহ একেবারে প্রাথমিক স্তরে পড়তে বললেন সত্যি, মাথার তাজ সমতুল্য ওস্তাদজীর নির্দেশ মােতাবেক তিনি সর্বপ্রথম আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পাঠ করলেন প্রিয় পাঠকপাঠিকাগণ শুনলে অবশ্যই অবাক হবেন। হ্যা অবাক হবারই কথাও। আউযুবিল্লহ এবং বিসমিল্লাহ পাঠ করতঃ আলিফ-লাম-মীম হতে আরম্ভ করে মহাগ্রন্থ আল কোরান কারীমের পনের পারার শেষ পর্যন্ত মুখস্ত পড়ে ফেললেন। শুধু মুখস্ত নয় বরং তারতীব তাজভীদ সহকারে পড়েছিলেন। তার পড়া শুনে ওস্তাদজী অবাক হয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিভাবে কার নিকট হতে এত সুন্দরভাবে কোরান পড়া শিখেছ এবং কি ভাবে পনের পারা কোরান শরীফ মুখস্ত করলে? ওস্তাদজীর কথাৰ জৰাৰে সত্যের সেনানী মাহবুবে সােবহানী হযরত বড়পীর সাহেব উত্তর করলেন-আমার মাতা পনের পারা কোরআন শরীফের হাফেজ, তিনি তাহা প্রত্যহ তেলওয়াত করে থাকেন। তার তেলয়াত শুনে আমারও মুখস্ত হয়ে গেছে। ইতিহাস বেত্তারা বলেন, হযরত বড়পীর সাহে রহমাতুল্লাহ সেই পনের পারার হাফেজ হয়ে দুনিয়ায় আসেন। তিনি যখন গায়ের মক্তবে পড়াশুনার জন্য ভর্তি হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। তবে বয়সের দিক দিয়ে কম হলেও পড়াশুনায় ছিলেন খুবই মনােযােগী। অল্পলিনের মধ্যে তিনি অনেক কিছু শিখে ফেললেন। এমনও দেখা গেছে অন্য ছাত্ররা সাতদিনে যতােটুকু পড়া আয়ত্ত করতে পারে নাই রুহানী জগতের খাটি প্রদাতা মাহবুবে সােবহানী হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ তা দু’এক দিনেই আয়ত্ব করে ফেলতেন। ভাল ছাত্র হিসাবে তার সুনাম সুখ্যাতি মক্তবের বাইরেও ছড়ায়ে পড়লাে। সত্যি, ওস্তাদগণ বড়পীর সাহেবের মেধার অবস্থা দেখে লােকমুখে বলতে লাগলেন আব্দুল কাদের ভবিষ্যতে নামকরা আলেম হবেন। রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা সত্যের সৈনিক বড়পীর সাহেব রহমাতুল্লাহ শুধু পড়েই সন্তুষ্টি ছিলেন না, জীবন জগৎ ও প্রকৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। তাকে এমনও দেখা গেছে যখন যে বিষয়ে পড়াশুনা করতেন তা শেষ না করে ক্ষান্ত হতেন না, ওস্তাদগণকে আদৰ সহকারে নানারকম প্রশ্ন করতেন, যে প্রশ্নগুলাে ছিল অনেক উচ্চস্তরের। শিক্ষকগণ বড়পীর সাহেবের অদম্য জ্ঞান-পিপাসা ও বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা দেখে অবাক হয়ে যেতেন। আর দুহাত তুলে মহান করুণার আধার আল্লাহ জাল্লাহ শানুহুর শাহী দরবারে তার জীবনের উন্নতির জন্য দোয়া করতেন। ঐতিহাসি দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় পরিতাপের বিষয় হল মক্তব্যের শিক্ষা সমাপ্ত হতে না হতেই তার পিতা দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। পিতার ইহধাম ত্যাগের পর থেকে সংসারের যাবতীয় ভার পরে মাহবুবে সােবহানী হযরত আব্দুল কাদের রহমাতুল্লাহ-এর উপর। সাংসারিক অবস্থা তাদের তেমন ভাল না থাকায় নিজ হাতে অনেক কাজ করতে হয়। কিন্তু আল্লাহর অসীম রহমতে সাংসারিক ঝামেলার মধ্যে পড়া সত্ত্বেও তার বিদ্যাশিক্ষার আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সাংসারিকত কাজ সমাধা করেই লেখাপড়ায় মনােযােগ দিতেন। এমনও দেখা গেছে-যেদিন পড়াশুনা না করতে পারতেন সেদিন তার মন খুব খারাপ থাকত। একথা সর্বজনবিদিত যে ছােট বেলা তেকেই মাহবুবে সােবহানী সুফী সাধক হযরত

আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ একটু ভিন্ন প্রকত্তির ছিলেন। ধর্মের প্রতি ঝোক ছিল। ধর্মের প্রতিটি হুকুম আহকাম মেনে চলতেন। ছােটবেলা হতেই তিনি বেশি কাত বলা পছন্দ করতেন না। তার সহপাঠীদের সাথেও কোনদিন একটু বাজে আলাপ করেননি। সর্বদা তার খেয়াল ছিল পড়াশুনার দিকে, কিভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়।

ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায় হিজরী ৪৮৮ সালে যবন তার বয়স ১৮ বৎসর, তখন তিনি মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম রাজধানী ঐতিহাসিক বাগদাদে পদার্পণ করেন । উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে হলে সে সময় বাগদাদে যেতেই হত। রাজধানীর বাগদাদের সনদই সে কালে উচ্চস্তরের সনদ বলে গণ্য হত। মাহবুবে সােবহানী সূফী সাধক হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ যে বসর বাগদাদ নগরীতে পদার্পণ করেন, সেই বৎসরই খলীফা আলমুস্তাহের বিল্লাহ, খেলাফতের আসন গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে একাথাও সুস্পষ্টভাবে জানা যায় এই খলিফাও সেই ৪৭০ হিজরী সনেই জন, লাভ করেছিলেন। সে বৎসর রুহানী জগতের খাটি প্রজ্ঞাদাতা মাহবুবে সােবহানী হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। বড়পীর সাহেব গ্রামের পাঠশালার পড়াশুনা শেষ করে বাগদাদের বিশ্ববিখ্যাত মাদ্রাসায়ে নিয়ামিয়তেই ভর্তি হলেন। এই নিযামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল অনেক উন্নতমানের। এ সময় বাগদাদ নগরীতে ছানি এলেমের নামকরা প্রতিষ্ঠান ছিল। নুি তার মধ্যেও মাদ্রাসায়ে নিযামিয়া ছিল উর্ধ্বে। এই মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্র সমাজের সকলের কাছে উচ্চ শিক্ষিত বলে পরিচিত ছিল। একথা বাস্তব সত্য কথা যে বিশ্বের সেরা ওবাছাই করা নামকরা ওলামায়ে কেরাম নিযামিয়া মাদ্রাসায়ে অধ্যাপনা করতেন। এই মাদ্রাসার শিক্ষকগণ আদ্যাত্মিক বিদ্যায়ও শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন।

গাওসুল আযম বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ বাগদাদ এসেই কুরানের তাফসী ও কেতাৰ প্রভৃতি বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করেন। ইতিহাস পাঠে জানা যায়। সাহিত্যে তার ওস্তাদ ছিলেন সাহিত্য জগতের অন্যতম লেখক আৰু যাকারিয়া তিৰবিয়া। ইলমে ফেকাহ এবং উসুল শাস্ত্রের ওস্তাদ ছিলেন সেকালের নামকরা মুফল শেখ আকুল ওফা আলী বিন আৰুৱ। হাদীস পাঠে জানা যায় মাহবুবে সােবহানী সাধক স্কুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ হাদীসৰী আবুল বরকত তালহা আল আকুলী। আল্লাহর অসীম রহমতে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সাহেব রহমাতুল্লাহ অল্প বয়সেই সুমনা সুখ্যাতি নিয়ে নিযামিয়া মাদ্রাসার সর্বশ্রেষ্ঠ পরীক্ষা কামেল ক্লাশের সনদ লাভ করেন। এ বিদ্যা শিক্ষকালে সত্যের সৈনিক হযরত বড়পীর সাহেব অসীম। কষ্ট সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছেন। সে সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন, ‘আমার মনে যখন দুঃখ-কষ্ট বেশির ভাগ অনুভব হত তখন আমি মাটিতে শুয়ে ব্যাশ বাণী আল কোরানের এই আয়াতটি পড়াতাম- “ইন্নামাল উসরি ইউসরা” অবশ্যই দুঃখ-কষ্ট বিনে সুখ হয় না যাই হােক নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা জীবনের ৯টি বছর কেটে গেল।

ইতিহাস পাঠে একথাও জানা যায় সত্যের দিশারী আওলীয়া জগতের উজ্জ্বল তারকা হয়রত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী সাহেব রহমাতুল্লাহ না করে সুনাম সুখ্যাতি নিয়ে তেরােটি বিষয়ে সনদ লাভ করেন। আরবী ভাষায় তার প্রচুর আন ছিল। অনলি আরবীতে কথা বলতে পারতেন, আরবী ভাষায় সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখে কৰি ৰলেও পরিচিত ছিলেন। এক কথায় বলতে গেলে সেকালে মাহবুবে সােবহানী হযরত গাওসুল আযম পড়পীর সাহেবের মত সেরা ছাত্র ছিল না। ছাত্র হিসাবে তিনি যে অধিক মেধাবী ছিলেন উহা একটা ঘটনার মাধ্যমেই অনুধাবন করা যাবে। হাদীস শাস্ত্ৰেণয় সাফল্য অর্জন করার পর

তাকে যখন সাটিফিকেট দেওয়া হল, ঐ সময় তার ওস্তাদ তাকে বললেন হে আব্দুল কাদির, হাদীস শাস্ত্রে তােমাকে আজ আমরা যে সনদ দিচ্ছি, এটা একটা প্রচলিত নিয়ম মাত্র। তোমার মেধার এ নিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব না। কেননা হাদীসের অনেক ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ আ ই সময় তােমার সাথে আলােতনা করেই জানতে পেরেছি। সত্যের অগ্রনায়ক আওলীয়াকুলের শিরমণি বড়পীর সাহেব উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে বসে রইলেই না। বিশ্ব নিয়া আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের সান্নিধ্য লাভের জন্য তার ছিল দারুণ ইচ্ছা। শিক্ষা জীবন সমাপ্ত হবার পর থেকে দয়াময় আল্লাহর মহব্বত থাকে পাগল করে তুললাে।

সূফী সাধক হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ সাহেব সর্বদা ভাবতেন কিভাবে মহান করুণার আধার আল্লাহ জাল্লাহ শানহুর নৈকট্য লাভ করা যায়। আস্তে আস্ত দেখা গেল বড়পীর সাহেবের দুনিয়ার প্রতি কোন খেয়াল নেই। বড় বড় অলী আবদালের সােহবতে কাটালেন অনেকদিন। যাই হােক উন্নতি সাধনে গভীরভাবে মনােনিবেশ দিলেন। পার্থিব যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে একনিষ্ট চিত্রে মহান করুণার অপার আপ্তাহ-জাল্লাহ শানহুর নৈকট্য লাভে ব্রতী হলেন। দুনিয়ার সকল প্রকার আরাম আয়শ ত্যাগ করে এমন কি মানুষের স্বাভাবিক খাদ্য ও ব্যবহার্য দ্রবাশি ত্যাগ করে বনে ফলমূল ও শাক-সবজি ইত্যাদি দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করতে লাগলেন। মানুষের সাথে মেলামেশা বাদ দিয়ে নিরবে নির্জনে বসবাস করতে লাগলেন। নিজের সম্পূর্ণ সময়টুকু বিগ নিয়ন্ত্র। আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ব্যয় করলেন। রাত্রের ন্দ্রিা নিজের জন্য হারাম করে সারারাত্রি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতেন। ইসলামী জ্ঞানীদের দৃষ্টিকোণ থেকে একথাও জানা যায় যে মাহবুবে সােবহানী বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহ সাহেব প্রতি রায়ে নফল নামাজ কোরান শরীফ খতম করতেন। অনেক সময় দেখা গেছে যে বিশ্ব নিয়ন্ত্র আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের জিকির ও ধ্যান করতে করতে তিনি নিস্পন্দ অবস্থায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে রয়েছে না জীবিত আছেন বলে কোন লক্ষণই

যাই হােক এমনিভাবে কঠোর সাধনার ফলে রুহানী জগতের আঁটি প্রজ্ঞাদাত সূফীকুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ, একজন কামেল ওলীতে পরিণত হয়েছেন। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ একটু চিন্তা করে দেখুন বড়পীর সাহেব কত সাধনার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব নিয়া আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের নৈকট্য অর্জন করেছিলেন। বড়পীর সাহেব তার মনে লােভ লালসা, রাগ-হিংসা সম্পূর্ণ দমন করতে সক্ষম হলেন লাভ করলেন মহান করুণার আধার আল্লাহ জাল্লা শানহুর নৈকট্য অর্জন করলেন আল্লার পিয়ারা বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য। | মধোসার অধ্যক্ষ পদ ! ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হযরত আবু সাঈদ মাখদুমী রাহেমাহুল্লাহ কুর্তৃক তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে মাহবুবে সােবহানী হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ উচ্চ পর্যায়ের যােগ্যতার সহিত শিক্ষা প্রদান করতে লাগলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তার সুযােগ্য শিক্ষ পদ্ধতির খ্যাতি সারা বাগদাদ শহরে ছড়িয়ে পড়ল। বহু দূর-দূরান্ত থেকে দলে দলে ছাত্র পঙ্গপালের মতাে ফুটে আসতে লাগল এবং তার নিকট হতে শিক্ষা এবং ফায়েজ লাভ করতে লাগল। আস্তে আস্তে মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা অনুপাতে স্থান খুবই সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। বড়পীর সাহেব সর্বদা তাফসীর, হাদীস, এলমে নাহ এলমে ছরফ এবং উসুলে ফেকাহর তালীম প্রদানে মসগুল থাকতেন। যাই হােক সুনাম সুখ্যাতির সাথে মাদ্রাসার শিক্ষকতা কাজ করেন। আল্লাহ রাসুল আলামীনের অসীম রহমতে অল্পদিনের মধ্যেই মাদ্রাসাটির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়লাে। বহু দূরের জাত্ররা এসে ৰতি হতে লাগলো এখানে। সত্যি। আস্তে আস্তে ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে

বড়পীর সাহেবের সুনাম সুখ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ল। মাদ্রাসার ছাত্রদের জায়গা দেওয়াই কঠি হয়ে পড়লাে। বড়পীর সাহেব চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলেন কিভাবে মাদ্রসার ঘর বৃদ্ধি করা যায়। ইন্দে করলেই তাে আর বাড়ানাে যায় না, এ জন্যে অর্থের প্রয়োজন ॥ মাহবুবে সােবহানী গসুল আজম হ্যরত বড়পীর সাহেব একটিদন এক বিরাট মজলিসে ব্যাপারটা তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন জানালেন সত্যি কথা বলতে কি তার কথায় সকলের সাড়া দিল ধনী ‘গরীব সকল স্তরের লােক অংশ গ্রহণ করলেন।

মাদ্রাসি-ই- কাদেরিয়া ! মহান করুণার আঁধার আল্লাহ আল্লাহ শানহুর অসীম রহমতে জনসাধারণের মিলিত সহযােগীতায় দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের নতুন ঘর তৈরি হলাে। সকলে বহুদিনের আশা পূর্ণ হল। তৈরি হল নতুন পরিবেশ। ইতিহাস পাঠে জানা যায় মাদ্রাসার নাম দেয়া হল মাদ্রাসা-ই-কাদেরিয়া মাহবুবে সােবহানী সত্যেই সৈনিক আওলিয়াকুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ-এর সুযােগ্য পরিচালনার মাদ্রাসা যেন নতুন জীবন লাভ করলাে।। | বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ কথা দিবালােকের মত সমুজ্জ্বল যে সত্যের সৈনিক রুহানী জগতের আঁটি প্রজ্ঞাদাতা মাহবুবে সােবহানী বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ শুধুমাত্র ইলমে শরীয়ত ও মারেফতের পন্ডিত ছিলেন না। বরং তিনি কাব্য, সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, ভূগােল প্রভৃতি শাস্ত্রের সুপন্ডিত ছিলেন। সত্যি কথা বলতে কি তাঁর প্রণীত বহু, কিতাৰ অদ্যাবধি এ কথার সাক্ষ্য বহন করছে। এসব কিতাবের মধ্যে ফুত গীয়ৰ, গুনিয়াতুত তালেবিন, ফতহুর রব্বানী, কাসীদায়ে গাওসিয়া সমধিক প্রসিদ্ধ। আল্লাহর অসীম রহমতে এই সকল কিতাবের বাংলা ওজুমাও হয়েছে। যার দ্বারা অসংখ্য লােক সিরাতুল মুস্তাকিমের সঠিক সন্ধান পেয়েছে। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ হযরত বড়পীর সাহেব কেবল শরীয়ত মারেফাত বিদ্যায়ই পান্ডিত্য অর্থন করেছিলেন তা নয়, তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। এক কথায় বলতে গেলে যাবতীয় ইসলামী আখলাখের অপূর্ব সমাবেশ ও বিকাশ ঘটেছিল হযরত বড়পীর সাহেবের জীবনে। | বড়পীর রহমাতুল্লাহ-এর কয়েকটি উপদেশাবলীঃ একথা সর্বজন বিদিত যে রুহানী জগতের আঁটি প্রজ্ঞাদাতা আওলীয়াকুলের শিরমণি হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ গােটা জীবনের সাধনাই ছিল মানব কল্যাণ। মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি আজীবন চেষ্টা করে গেছেন। সােনালী ইসলামের নির্মল আদর্শ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল সত্যের সৈনিক গাওসুল আযম হযরত বড়পীর সাহেবের রহমাতুল্লাহ প্রধান ও একমাত্র জীবনের লক্ষ্য ও কর্তব্য। তিনি শিক্ষকতা, পুস্তক প্রণেতা, ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে মানুষদেরকে ইসলামের পথে আনার চেষ্টা করে গেছেন। মােট কথা মাহবুবে সােবহানী গাওসুল আযম হযরত বড়পীর রহমতুল্লাহ ছিলেন ইসলামে একনিষ্ঠ খাদেম। বিশ্ব নিয়স্তা আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের ইচ্ছায় তিনি তার উপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব সযত্নে পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করেছেন। ইসলামী জ্ঞান তাপসদের দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় হযরত বড়পীর সাহেব রহমাতুল্লাহ ইসলামের শরীয়ত ও মারফতের জ্ঞান সাধনা ও বিতরণকরে অন্তরে বাইরে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠার সত্যিকার প্রশস্ত রাজপথ নির্মাণ করে গিয়েছেন, যাহা বিশ্বের সকল মুসলমানদের পাথেয় সত্যের সেনানী বড়পীর সাহেব যাহা বলেছেন তাহাই মানবজাতীয় কল্যাণের জন্য করেছেন। তিনি ইসলাম প্রচার করতে যেয়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। হযরত বড়পীর সাহেব রহমাতুল্লাহ পরহেজগার ব্যক্তিবর্গের জন্য কয়েকটি মূল্যবান নির্দেশ রেখে গেছেন যা নিম্নে দেওয়া হল

১। শপথ ও প্রতিক্ষা করা উচিত নহে। তবে শপথ বা প্রতিজ্ঞা করে বসলে তাহা পালন করবেন।

২। মিথ্যা কথা বলিও না। কোনভাবেই মিথ্যা বলতে নাই। উপহাস, ঠাট্টা, হাস্যকৌতুক করেও মিথ্যা বলও না। সদা সর্বদা সত্য কথা বলবে।

৩। কখনও বিশ্বনিয় আল্লাহ রাব্দুল আলামীনের নাম শপথ করাে না।

৪। কোন মুসলমানকে নিশ্চিতভাবে মুনাফিক কাফের কল না। মহান করুণার আঁধার আল্লাহ জাল্লাহ শানহু ছাড়া কে জানে না কে মুনাফিক, কে মুশরিক।

৫। কোন মানুষের নিকট কোন আশা-আকাক্সক্ষা কর না।

৬। বিনয়ী হও। আদব-কায়দা, নম্রতা ও শিষ্টাচারের মধ্যে ধর্মভিরুতা রয়েছে। তোমার সৎ আচরণগুলি ইবাদতের সহিত সংশ্লিষ্ট।

৭। কাকেও অভিসম্পাত কর না। ধৈর্যধারণ পূর্বক যে কোন আপদ বিপদ দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন মুকাবিলা করবে।

৮, নিজের মর্তবা অর্জনের জন্য কারও উপর কার্যদায়িত্ব চাপাইয়া দিওনা। ইহা | পুরাপুরিভাবে বিশ্বনিয়া আল্লাহ রাব্বল আলামিনের দায়িত্ব। তিনিই তােমার | রিজিকদাতা।

ইন্তেকাল । একথা সর্বজন বিদিত যে মানুষ মরণশীল। প্রত্যেক মানুষেরই মৃত্যুর | শরবত পান করতে হবে। পার্থিব জগতের কেহই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পানে না | পই মাহবুবে সােবহানী আওলীয়াকুলের উজ্জ্বল নক্ষত্র সূফী সাধক গাওসুল আযম

হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ ও মতর হাত থেকে রেহাই পাননি। তাকেও | পার্থিব জগতের মায়া মমতা ছিন্ন করে পরপারে যাত্রা করতে হয়েছে। ইসলামী জগতে বড়পীর হযরত আঙ্গুল কাদের জিলানীকে না জানে এমন লােক বিৱল। সারা পৃথবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তা অনুসারীরা। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে রয়েছে ‘ তার অগণিত ভক্ত অনুরক্তের দল। এই কুতুবুল আফতাৰ মুসলিম মিল্লাতকে এমিত করে। | হিজরী ৬৬২ সালের ১১ই রবিউসসানী তার মাশুকের আলার নিকট গমন করেন। | ইন্নালিল্লাহ or rever.। ইন্তেকালের সময় তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। এটা বাস্তব সত্য

কথা যে জাগতিক মৃত্যুর তুহিন শীতল সংস্পর্শে তার কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও তার | প্রতিষ্ঠিত সংস্কার ও আদর্শ পৃথিবী প্রলয় পর্যন্ত অম্লান থাকৰে। ইসলামের খিদমতের জন্য তিনি যেমন কাজ করেছেন সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের জন্য অনন্ত কাল ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বড়পীর সাহেবের ইহধাম ত্যাগের দিন ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলমানদের জাতীয় পর্বে পরিণত হয়েছে। তার ইন্তেকালের বার্ষিকীতে সারা বিশ্বের | মুসলিমগণ বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মিলাদ মাহফীল, কোরান খতম করে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে তার রুহানী ফায়েজ হাসিল করার তুকি দান করুন।

কাফন দাফন । সত্যের দিশারী রুহানী জগতের অন্যতম সাধক হযরত বড়পীর সাহেবের রহমাতুল্লাহ, ইহধাম ত্যাগের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল। সংবাদ শোনা মাত্রই মানুষ পঙ্গপাল পাখীর মত তার বাসভবনে ঘটে আসলেন। ঐতিহাসিক বাগদাদ শহরের সকল শ্রেণীর লােকেরা তাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ওস্তাদ পীর সাহেব কেবলা রহমাতুল্লাহ-কে শেষ দেখা দেখতে বন্যার হাতের মত এসে ভীড় জমাইলেন। সমস্ত দিন চলল শেষ দেখা লােকের সমামে আর দিনের বেলায় তাকে দাফন করা গেল না। তার আদরের সুযােগ্য পুত্র শেখ আবদুল ওয়াহহাব তাকে শেষবারের মত গােসল করালেন এবং কাফন পরালেন। বড়পীর সাহেবের ভক্তবৃন্দের শেষ দেখা সমাপ্ত হলে তার পবিত্র মরদেহ তারই আজীবনের কর্মক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ জনি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায়ে কাদেরিয়ার বারান্দায় চিরজীবনের জন্য শায়িত করা হল।

মনসুর হাল্লাজ এর জীবনী পড়তে এখানে ক্লিক করুন।