Select Page

ঋতুর চতুর্থ দিন থেকে চতুর্দশ দিন পর্যন্ত (যৌন মিলন) নারীগমনের ফলঃ

এবারে মহাদেব একটি অতি প্রয়ােজনীয় বিষয় সম্বন্ধে বর্ণনা করতে উদ্যত হলেন। তা হলো ঋতুর চতুর্থ দিন থেকে চতুর্দশ দিন পর্যন্ত নারীগমনে কি ফলাফল হয়। সেই অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয় বর্ণনা করলেন তিনি।

কোন দিনে নারীগমন করলে তার গর্ভস্থ সন্তানের কি অবস্থা হয়, তাও বর্ণনা করলেন তিনি।

ঋতুর শেষে চতুর্থ দিনে নারী স্নান করলে শুদ্ধ হয়।

এর আগে নারীগমন একান্তভাবে বর্জনীয়তা আগেই বর্ণনা করা হয়েছে।

চতুর্থ দিনেও নারী প্রথম প্রহরে অগম্যা থাকে। কিন্তু পরবর্তী প্রহরে নারীগমন করলে সেই গর্ভে যে পুত্র হয়, সে পরম ধর্মপরায়ণ হয়ে থাকে।

ঋতুর পর পঞ্চম দিনে (যৌন মিলন) নারীগমন করলে যদি সেই গর্ভে কোনও কন্যা উৎপন্ন হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সে কন্যা অসদাচারী, অধার্মিক, চরিত্রহীনা, এমন কি কুলটা হতে পারে। এমন কি সে স্বকুলনাশিনীও হয়ে থাকে।

যদি কেউ মদনার্ত হয়ে ঋতুর পর ষষ্ঠ দিনে নারীগমন করে, তা হলে সেই গর্ভে যদি পুত্রের উৎপত্তি হয়, তবে সে মহাদরিদ্র ও ভিক্ষুক হয়। সারা জীবন তাকে দরিদ্রতার মধ্যে ও ভিক্ষা করে কাল কাটাতে হয় ।

ঋতুর শেষে সপ্তম দিনে নারীবিহার (যৌন মিলন) করলে যদি সেই গর্ভে কন্যা জন্মে, তাহলে সেই কন্যা নিজ পতিকে পরিত্যাগ করে পরপুরুষের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে।।

যদি ঋতুর পর অষ্টম দিবসে কেউ স্ত্রীর সঙ্গে বিহার (যৌন মিলন) করে, তা হলে সেই গর্ভে যে পুত্র হয়, সে সুখী ও পরম ধার্মিক হয়।

ঋতুর পর নবম দিবসে যদি কেউ নারীগমন করে, তা হলে যদি কন্যা জন্মে, সেই কন্যা সতী, পতিব্রতা, সদাচারপরায়ণা হয়ে জীবন কাটায়।।

যৌন মিলন

হে পার্বতি, ঋতুর পরে দশম দিনে যদি কেউ নারীবিহার করে, তা হলে সেই নারীর গর্ভে যে পুত্র জন্মগ্রহণ করে, সেই পুত্র আজন্ম পরম সুখে দিন অতিবাহিত করে।

হে দেবি, ঋতুর পর একাদশ দিনে যদি কেউ রতিবিহার (যৌন মিলন) করে, তা হলে সেই গর্ভে যে কন্যা জন্মগ্রহণ করে, সেই কন্যা কুলবতী ও ধর্মশীলা হয়ে থাকে।

ঋতুর পর দ্বাদশ দিনে স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলন করলে সেইদিনে যে পুত্ৰ উৎপন্ন হয়, সেই পুত্র সত্যবাদী, ধার্মিক জিতেন্দ্রিয়, কৃষ্ণভক্তিপরায়ণ, দীর্ঘায়ু ও নিস্পাপ হয়ে থাকে।

হে দেবি, ঋতুর পর ত্রয়ােদশ দিনে যদি কেউ যৌন মিলন করে, তবে তার গর্ভে কন্যা উৎপন্ন হয়ে থাকে। সেই কন্যা জিতেন্দ্রিয়া, সদাচারপরায়ণা, সত্যভাষিণী ও প্রিয়বাদিনী হয়ে থাকে।

হে প্রিয়ে, ঋতুর পর চতুর্দশ দিবসে কেউ নারীবিহার (যৌন মিলন) করে, তাহলে সেই নারীর গর্ভে যদি পুত্রের জন্ম হয়, সেই পুত্ৰ মহাসুখী ও বিচক্ষণ হয়ে থাকে, সন্দেহ নেই।

চতুর্দশ দিনের পর আর কোনও পুত্রকন্যা হয় না।

তবে আমি সম্পূর্ণ রতিশাস্ত্র বিষয়ে বর্ণনা করলাম। আশা করা যায় প্রতিটি লােক সেই অনুযায়ী বিচার করে সব কর্মাদি নির্বাহ করবে।

সূত্রঃ বৃহৎ রতিশাস্ত্র

যৌনসঙ্গম-ঋতুর কোন সময়ে করলে স্বামী স্ত্রীর উপর কি প্রভাব পরে?